ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি এবং সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বিরোধের জেরে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের বিষয়টি জানায় রয়টার্স।
ফ্রিল্যান্ড জানান, গত শুক্রবার ট্রুডোর সঙ্গে একটি বৈঠকের পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে ট্রুডো তাকে একটি নিম্নস্তরের পদে কাজ করতে বলেন, যা তার জন্য অসম্মানজনক।
এদিকে ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জননিরাপত্তা মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ককে দেশটির নতুন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লেব্ল্যাঙ্ক ট্রুডোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
একটি সূত্র জানায়, ট্রুডো চেয়েছিলেন ফ্রিল্যান্ড নামমাত্র ‘কানাডা-মার্কিন সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী’ হিসেবে কাজ করুক। যেটি তিনি মানতে পারেননি।
তবে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তবে শ্রমমন্ত্রী স্টিভেন ম্যাককিনন জানান, সেখানে খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল।
ফ্রিল্যান্ড কানাডার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদত্যাগ ট্রুডোর জন্য অন্যতম বড় সংকট এবং দীর্ঘদিনের প্রধান মিত্রকে হারানোর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে তাকে আরও দুর্বল করে তুলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ট্রুডো পরে অটোয়ায় এক তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকের দিনটি তার জন্য ঘটনাবহুল এবং সাধারণ কোনো দিন নয়।
এদিকে, বিরোধী নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সিনিয়র নেতা পিটার জুলিয়ান জানান, তার দল আগামী বছরের শুরুতে ট্রুডোর বিরুদ্ধে আস্থা ভোট আনার পরিকল্পনা করছে।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, ট্রুডোকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
বিরোধী কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিভরে বলেন, সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই বিশৃঙ্খলা এবং দুর্বলতা আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশেষ করে যখন আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্কের হুমকি রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিক নানোস বলেন, ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগ লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের সংকট তৈরি করবে এবং ট্রুডোর জন্য এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এরই মধ্যে ফ্রিল্যান্ডের পাশাপাশি আবাসনমন্ত্রী শন ফ্রেজারও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যা লিবারেল দলের সংকটকে আরও গভীর করেছে। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/