হাইতির পোর্ট-অ-প্রিন্স শহরের সরকারি হাসপাতলে বন্দুকধারীর আক্রমণে দুজন সাংবাদিক ও একজন পুলিশ প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ইউনিভার্সিটি অব হাইতি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা সঙ্কটে গত মার্চ থেকে হাসপাতালটি বন্ধ ছিল।সম্প্রতি এই চিকিৎসাকেন্দ্র পুনরায় চালু হয়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে হাইতির ট্রাঞ্জিশনাল প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট লেসলি ভলতেয়ার বলেন, ‘এই ধরণের আক্রমণ কখনোই কাম্য নয়। এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
এই আক্রমণে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায় হাসপাতালের রক্তাক্ত মেঝেতে ভুক্তোভোগীদের মরদেহ পড়ে আছে।
জনসন আন্দ্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন ভিভ আনসান্ম এই হামলায় জড়িত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আক্রমণের কারণ সমন্ধে স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংবাদকর্মী জেফেত বাজিল হামলার বিষয়ে বলেন, ‘আমি এখনো আতঙ্কিত। আক্রমণকারীরা হাসপাতালে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করলে কয়েকজন গুলিবদ্ধ হন।’
মৃত সাংবাদিকদের একজন মউন আফের জিমি জিন , অন্যজন ভয়েস অব আমেরিকার মারকেন্ডি ন্যাটোউ।
২০২১ সালে হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসের হত্যার পর অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসী তৎপরতা ঊর্ধ্বগতি ধারণ করে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সন্ত্রাসী সংগঠনগলো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়নি দেশটির চিকিৎসাক্ষেত্রও।
সম্প্রতি সন্ত্রাসী দলগুলো হাইতির সর্ববৃহৎ ট্রমা সেন্টার বারনার্ড মেভস হাসপাতাল গুড়িয়ে দেয়।
জেনারেল হাসপাতাল পুনরায় চালু করার পর জনমনে খানিকটা স্বস্তি এলেও এই হামলার পর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহী হয়ে পড়বে বলেই আশংকা করছেন স্থানীয়রা। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
নাইমুর/