আজারবাইজান থেকে রাশিয়ায় যাওয়ার পথে কাজাখস্তানের আকতাও শহরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মারা গেছেন। মধ্য এশিয়ার দেশটির জরুরি সেবা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাতে ৬২ আরোহী ও ৫ ক্রু ছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল-জাজিরা। আকতাও থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। আরোহীদের মধ্যে ২৭ জন প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে গেছে।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, তা নেভাতে সক্ষম হয়েছে দমকল বাহিনী। প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিকল্প কোনো বিমানবন্দরে অবতরণে অনুমতি চেয়েছিল। মূলত রাশিয়ার চেচনিয়ার গ্রোজনি শহরে ভারী কুয়াশা থাকার কারণে ওই অবতরণের অনুমতি চাওয়া হয়।
ওই বিমানটির যাত্রীদের মধ্যে আজারবাইজান, রাশিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাগরিক ছিলেন। রাশিয়ার বিমানবিষয়ক এক সংস্থা জানিয়েছে, বিমানে পাখি আঘাত হানার কারণে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করাতে চেয়েছিলেন পাইলট। চেচনিয়ার ক্রেমলিন সমর্থিত নেতা রামজান কাদিরভ এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে যাদের চিকিৎসা চলছে, তাদের অবস্থা বেশ গুরুতর। তাদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেছেন তিনি।
কাজাখস্তানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কারিগরি ত্রুটির মতো কোনো বিষয় রয়েছে কি না তা-ও বোঝার চেষ্টা করছেন। সূত্র: আল-জাজিরা, ইউরোনিউজ