কাজাখস্তানে বিধ্বস্ত হওয়া আজারবাইজানের যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৮ জন মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে চার সূত্র এ তথ্য জানায়।
গত বুধবার কাজাখস্তানের আকতাও শহরের কাছে ফ্লাইট জে২-৮২৪৩ বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি মূলত দক্ষিণ রাশিয়ার এক অঞ্চল থেকে সরে ওই স্থানের দিকে আসছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ রাশিয়ার ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছিল মস্কো।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে দক্ষিণ রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের গ্রোজনির দিকে রওনা হয়েছিল বিমানটি। পরে এটি পথ পরিবর্তন করে কাসপিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে শত শত মাইল পথ পাড়ি দেয়।
কেন বিমানটি সাগর পাড়ি দিয়েছিল তা ব্যাখ্যা করেননি কর্মকর্তারা। তবে বিমানটির যাত্রাপথেই থাকা রুশ বিমানবন্দর মাখাচকালা বুধবার সকালে বন্ধ ছিল। ফলে সেখানে অবতরণের কোনো সুযোগ ছিল না সেটির। আজারবাইজানের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রয়টার্সকে জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে রাশিয়ার ‘পান্টসির-এস’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাত ছিল। গ্রোজনির দিকে যাওয়ার সময় বিমানের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিকল করে দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র বলেন, কেউ দাবি করেনি যে এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠিত সত্যগুলোর ভিত্তিতে বাকু আশা করছে যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিমান ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করা হবে।
তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে আরও তিন সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই বিমানে আঘাত হেনেছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা রাশিয়াকে এ ঘটনার বিষয়ে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্ত করার এবং সামনে আসা ফলাফল গ্রহণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। কাজাখস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কানাত বজিমবায়েভ বলেন, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিতও করছেন না, প্রত্যাখ্যানও করছেন না। সূত্র: রয়টার্স