মায়ানমারের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। দেশটির সর্বশেষ জনসংখ্যা শুমারির প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিতই মিলেছে। দেশটির ৩৩০টি শহরের মধ্যে জান্তা সরকার মাত্র ১৪৫টির জনসংখ্যা গণনা করতে পেরেছে। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া ওই শুমারির ফলাফল গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আরাকান রাজ্যও জান্তার নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, ওই রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই তাদের দখলে।
মায়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদন বলছে, জান্তা সরকার অক্টোবরে জনসংখ্যা শুমারি করে। এতে দেশের ১৪৫টি টাউনশিপের (শহর) সম্পূর্ণ ও ১২৭টি টাউনশিপের অর্ধেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা। আর তথ্য সংগ্রহ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ৫৮টি টাউনশিপের।
ফলাফল প্রকাশ করে জান্তা সরকার জানায়, মায়ানমারের আনুমানিক জনসংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখের গণনা করা সম্ভব হয়েছে। ১ কোটি ৯০ লাখের কাছাকাছি মানুষ এমন এলাকায় বাস করে, যেখানে সমীক্ষা চালানো সম্ভব হয়নি।
মায়ানমারে চলমান বিদ্রোহ ঠেকাতে যে জান্তা সরকার ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকা তাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, সেটিই উঠে এসেছে সমীক্ষার মধ্য দিয়ে।
আগামী বছর মায়ানমারে নির্বাচন দিতে চায় জান্তা সরকার। সেটিরই প্রথম ধাপ এই জনসংখ্যা শুমারি। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই এর কাজ শেষ হয়ে যাবে। পরে জান্তা সরকার চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এর সময় বৃদ্ধি করে। শুমারি চলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে কর্মকর্তাদের। ইয়াঙ্গুনেও তথ্য সংগ্রহের সময় সুরক্ষার কথা ভেবে তারা সঙ্গে রেখেছেন সশস্ত্র পুলিশ। অনেক মানুষের জান্তা সরকারের ওপর বিশ্বাস না থাকায় শুমারি চলাকালে সঠিক উত্তর দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইরাবতি। এসব কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সমীক্ষায় উঠে আসা ফলাফল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য নয়।
জান্তার প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যার ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পুরুষ, আর বাদবাকি ১ কোটি ৭০ লাখ নারী। অঞ্চলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা রয়েছে ইয়াঙ্গুনে। সবচেয়ে কম জনসংখ্যা রয়েছে কারেন্নি রাজ্যে।
এদিকে গত রবিবার রাখাইন রাজ্যের গয়া শহর দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এর মধ্য দিয়ে মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওই রাজ্যের ১৭টি শহরের ১৪টির ওপরই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলো।
রাখাইনের বেশির ভাগ চীনা প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণও এখন আরাকান আর্মির হাতে। এগুলোর মধ্যে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন প্রকল্পগুলো রয়েছে।
এএর মুখপাত্র সেগুলো নিরাপদে রাখা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে জনসাধারণের জন্য লাভজনক যেসব বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, সেগুলোকে সর্বোত্তম সুরক্ষা দেওয়ার কথা আমরা আগেই জানিয়েছি এবং আমরা এ বিষয়ে যেভাবে প্রয়োজন সহায়তা করব। এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’ সূত্র: ইরাবতি