অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের চার বছরের মাথায় পুরো বিষয়টিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে মায়ানমারের জান্তা সরকার। আরেকটি নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
গত দুই মাসে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নিজেদের নির্বাচনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে মায়ানমারের জান্তা সরকার। তারা ২০২৫ সালে নির্বাচন করতে চায়। এরই মধ্যে আদমশুমারির ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। সেটির ভিত্তিতে ভোটার তালিকা তৈরিতে হাত দেবে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মায়ানমারে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
এই পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়ে মায়ানমার জান্তার নির্বাচন করার দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে জান্তা ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে।
বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই জান্তার বাহিনী। দেশের বিপুল এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা। এরকম একটি বাস্তবতায় নির্বাচনের বিষয়টি আরও সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের সময় উত্তেজনাময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ দুই পক্ষের হাতে দেশের বিশাল দুটি অংশ রয়েছে। বিশ্লেষক, বিদ্রোহী গোষ্ঠী, কূটনৈতিক সূত্র ও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা আট সূত্র- সবাই সামনে কী হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এখনো জান্তা সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে দেশের অর্ধেক অঞ্চলে ভোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ওই পরিমাণ অঞ্চলই শুধু জান্তার নিয়ন্ত্রণে আছে। নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে শুধু জান্তার বাছাই করা গুটিকয়েক রাজনৈতিক দল। অন্য দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
জান্তা দেশের ৩৩০টি টাউনশিপের মাত্র ১৪৫টিতে আদমশুমারির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পেরেছে। ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, মায়ানমারের জেনারেলরা বছরের শেষ নাগাদ ১৬০ থেকে ১৭০টি টাউনশিপে নির্বাচন করতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কিত অবহিত রাজধানী নেপিদোর এক সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র বলে, তারা এগিয়ে যেতে চাইছে। ভোটের আগে এলাকাগুলোকে জান্তা আরও স্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে মায়ানমারের জান্তা মুখপাত্র মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের মায়ানমারবিষয়ক বিশ্লেষক ইয়ে মিয়ো হেইন বলেন, জান্তার এই পদক্ষেপ অবশ্যম্ভাবীভাবে সহিংসতাকে নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
মায়ানমারে বর্তমানে জরুরি অবস্থা চলছে যা জানুয়ারিতেই শেষ হওয়ার কথা। জান্তা আরও ছয় মাস জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াবে কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে আবার ধারণা করছেন, অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির আগ দিয়েই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করেছিল জান্তা। সূত্র: রয়টার্স