যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএইডের বিদেশি সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার পর সহায়তা ও উন্নয়ন খাতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন শত শত ঠিকাদার। অনেকের কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। অনেকের আবার পড়েছে বিপুল অঙ্কের বকেয়া।
২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে পা রাখার পরপরই সব ধরনের বিদেশি সহায়তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় ইলন মাস্ককে। যুক্তরাষ্ট্রের এই শত কোটিপতি এর আগে সহায়তা সংস্থা ইউএসএইডকে ‘অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি এর মাত্রা সীমিত করার পক্ষে ছিলেন।
ট্রাম্পের ওই নির্দেশের পর থেকে কয়েক ডজন ইউএসএইড কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শত শত অভ্যন্তরীণ ঠিকাদারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইউএসএইডের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শত শত কোটি ডলার সহায়তা দেয় ওয়াশিংটন। এখন সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির কর্মীদের ইচ্ছার ওপর।
এদিকে, বিশ্বব্যাপীই সহায়তা সংস্থাগুলো নতুন এক বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে। ইউএসএইডের ঠিকাদাররা সাধারণত নিজেদের দেশে ও বহির্বিশ্বে প্রথমে খরচ করে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে সে অর্থ নিয়ে নেয়। কিন্তু এখন সে পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ।
ভারমন্টভিত্তিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানের রেজোন্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ শ্মিডা বহু বছর ধরেই ইউএসএইডের ঠিকাদার। তিনি মনে করছেন, বিষয়টি অস্তিত্বের লড়াইয়ের পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্মিডা বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পের লাখ লাখ ডলার বিল বাকি রয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারে থাকা বিভিন্ন পক্ষই অনুমোদন দিয়েছিলেন।… আমরা দ্রুতই বুঝতে পেরেছি যে এটি আমাদের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি।’
শ্মিডা বর্তমানে ছাঁটাই শুরু করেছেন। তার হাতে আর উপায়ও নেই। তার প্রতিষ্ঠানের আয় কমে যাচ্ছে প্রায় ৯০ শতাংশ। নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে শ্মিডা বলেন, গত ১০ দিন আমার পেশাজীবনের সবচেয়ে বাজে দিনগুলো ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউএসএইড কর্মকর্তার বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বিভিন্ন পক্ষের পাঁচ কোটি ডলারের বকেয়া আছে। এটি শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বরের হিসাব। এ বিষয়গুলোর সুরাহা আদালতেও করা হতে পারে।
বেশ কয়েকজন ইউএসএইড কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। চাকরি হারানোদের মধ্যে একজন রস জুলিগার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টে ম্যালেরিয়া উদ্যোগে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে গত সপ্তাহে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
২০২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে। নারী স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সুপেয় পানি, এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসা, জ্বালানি খাতের সুরক্ষা, দুর্নীতি-বিরোধী পদক্ষেপ -প্রায় সব খাতেই সহায়তা ছিল ইউএসএইডের। সূত্র: রয়টার্স