যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে মার্কিন দখল প্রতিষ্ঠার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। দেশটির বিমান বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের অটল অবস্থানের বিষয়টি জানান এই নেতা।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) খবরটি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা ভয়েস অব আমেরিকা।
এ সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধবিরতির অধীনে মুক্ত ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মির ছবি দেখলাম। তাদের দেখে মনে হয় যেন গণহত্যার বুলডোজারের সামনে থেকে কোনোক্রমে বেঁচে ফিরেছেন।’
এ সময় গাজা অঞ্চল দখলের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় দৃঢ়তা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অঞ্চলটিতে হামাসের উপস্থিতি চিরতরে বন্ধ নিশ্চিতে এই পদক্ষেপ নিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ চাইলে গাজার কিছু অঞ্চল ‘মার্কিন নজরদারিরতে পুনর্নির্মাণের অনুমতি’ পেতে পারে, জানান ট্রাম্প।
এদিকে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অধীনে গাজার গুরুত্বপূর্ণ নেটিজেম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে ইসরায়েল। এই পদক্ষেপের পর থেকে ঘরে ফেরার আশায় বুদ ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা। রবিবার জিনিসপত্র নিয়ে কোনো প্রকার জবাবদিহীতা ছাড়াই অঞ্চলটি অতিক্রম করে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে অনেক ফিলিস্তিনিকে।
তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর করা হবে কি না, নিশ্চিত নন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এই দলে নেই কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এদিকে নেটিজেম করিডর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে হামাসের মুখপাত্র আবদেল লতিফ আল-কানৌয়ার মন্তব্য, হামাসের দাবির মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতি আদৌ বাড়ানো হবে- না কি গাজায় কায়েম হবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের দখলাদারিত্ব-নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না কিছুই। ফিলিস্তিনি শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির দ্বারে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা
নাইমুর/