জাতিসংঘ জানায়, কলম্বিয়ায় সশস্ত্র অপরাধ গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি শান্তি আলোচনা চললেও, এই গোষ্ঠীগুলো হাজার হাজার শিশু অপহরণ, কর্মী হত্যা এবং বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত করছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এএফপি এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বামপন্থি গেরিলা, ডানপন্থি আধাসামরিক গোষ্ঠী এবং মাদকচক্রের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫২ জন নিহত হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৯ জন মানবাধিকার রক্ষাকারী এবং ২১৬ জন শিশু নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই আদিবাসী। এসব শিশুকে অপহরণ করে গোষ্ঠীগুলোর হয়ে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কলম্বিয়ায় রাষ্ট্র-বহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী সংগঠনগুলোর সহিংসতা জনগণের জীবন বিপন্ন করছে এবং দেশের সামাজিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা জানান, প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর শান্তি অভিযান শুরুর পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের সামরিক পদক্ষেপ শিথিল হয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
প্রতিবেদনটি গত মাসে উত্তর-পূর্ব ক্যাটাটুম্বো অঞ্চলে সংঘটিত সংঘর্ষের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে এবং ৫০ হাজারেরও বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিনিধি জুয়ান কার্লোস মঙ্গে বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রভাব কমানোর জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় গণহত্যার ঘটনা ২৭ শতাংশ কমেছে, মানবাধিকার রক্ষাকারীদের হত্যা ১৫ শতাংশ কমেছে এবং বাস্তুচ্যুতি প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। সূত্র: এএফপি
বাসস/তাওফিক/