চলমার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বাগবিতণ্ডার পর হতবাক বিশ্ব। এ ঘটনার পর ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়াচ্ছেন ইউরোপের নেতারা। এই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শনিবার (১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, ‘স্বাধীন পৃথিবীর এখন নতুন একজন বিশ্বনেতা প্রয়োজন।’
ট্রাম্পের ‘গোয়ার্তুমির’ বিরুদ্ধে ইউরোপের শক্ত অবস্থান থাকা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন পুরো ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব করছে। সবার ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’ এ সময় কিয়েভের প্রতি ইউরোপীয় জোটের বর্ধিত সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এ দিকে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লেয়েন হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনি শক্ত-সাহসী-নির্ভিক থাকুন। আপনি একা নন। আমরা সবাই পাশে আছি।’
কিয়েভের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও। জেলেনস্কির প্রতি সহায়তা অটুট রাখার ব্রত নিয়ে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের বয়ানের তাৎক্ষণিক সমালোচনা করেছেন পুরোনো বন্ধু মাখোঁও। ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, রাশিয়াই আসন হামলাকারী, ইউক্রেন এখানে ভুক্তভোগী।
ইতালির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে সফল বৈঠকে অংশগ্রহণ করলেও শুক্রবারের বিতর্কের পর জেলেনস্কির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশে কার্পণ্য করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনসহ ইউরোপের নেতৃত্বাধীন দেশগুলোর শান্তি-আলোচনা চান তিনি।
এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন নরওয়ে , স্পেনে, পোল্যান্ড , নেদারল্যান্ড ও জার্মানির নেতারা।
তবে ইউরোপের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিপরীত সুরে কথা বলেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী। জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দুর্বলেরা যুদ্ধ লাগায়, শক্তিশালীরা শান্তি স্থাপন করে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের এই বিরোধ পুরো ইউরোপের জন্যই মাথাব্যাথার কারণ। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ- পাশাপাশি সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব-অপেক্ষা করছে এক অলৌকিক পটপরিবর্তনের। এই দ্বন্দ্ব আদৌ শান্তিতে এসে শেষ হয় ,না কি আরেকবার মুণ্ডুহীন মেশিনগানের মহড়া দেখা যাবে ইউরোপের পথে ঘাটে- তা সময়ই বলে দেব। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নাইমুর/