যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারের আগেই ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রকাশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্প এরই মধ্য দিয়ে দাবি করেছেন যে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ নথি। এতে মূল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তীতে কারিগরি কাঠামো আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিন থেকেই হরমুজ প্রণালী আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বর্তমানে ট্রাম্প ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ইরান ইস্যুতে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি আলোচনা এই সপ্তাহেই শুরু হবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা সম্পদ অবমুক্ত করা হবে ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে।
ভ্যান্স বলেন, চুক্তির প্রথম অংশে ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এ বিষয়ে যাচাইযোগ্য অঙ্গীকার করবে।
চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। এ সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা চলবে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ও রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী প্রয়োজন হলে অবস্থান করবে।
অন্যদিকে ইরান এই সমঝোতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি
খাদিজা রুমি/অমিয়/