ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রীদের চাপ বাড়ছে। তাকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন দলটির মোট ১০৪ জন সংসদ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়।
স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সর্বশেষ এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র এমপি ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন, যিনি গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও তার প্রতি অনুগত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা জানাতে হবে এবং অ্যান্ডি বার্নহামকে সেই পরিবর্তন আনার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি।’ লেবার এমপিদের ‘রেড ওয়াল গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান জো হোয়াইট এবং বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুক চার্টার্সও গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলত্যাগ করে স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবার পার্টির বেশির ভাগ এমপি চান, সম্ভাব্য বিভক্তিকর নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবর্তে স্টারমার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা বার্নহামের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং ‘ছেড়ে যাবেন না’। বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার এবং মন্ত্রিসভা, এমপি ও পরিবারের মতামত শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্নহামের শিবির এবং সম্ভাব্য আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তারা এই সপ্তাহে কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সময় দেওয়া হবে।
সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও স্টারমারকে বলছেন, ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়রের জন্য তাকে অবশ্যই পথ ছেড়ে দিতে হবে। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারসহ অনেকেই ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের’ দাবি করছেন।
গত মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, বার্নহামের জয়ের পর থেকে শাবানা মাহমুদ ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা একত্রিত হলে সেটি স্টারমারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফ