যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ এবং চীনের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) থেকে ওই শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তার এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালো যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ প্রভাব ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার সময় জানান, ওই তিন দেশ প্রাণঘাতী মাদক ফেনটানিলের প্রবাহ থামাতে পারেনি। সেগুলো আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে।
চীন যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের জবাব দিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবেই। যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ১০-১৫ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করেছে তারা। আগামী ১০ মার্চ থেকে কার্যকর হবে ওই শুল্ক। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন করে বেশ কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসছে দেশটি।
কানাডা ও মেক্সিকো প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনেকটা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সম্পর্ক উপভোগ করেছে। তারাও বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শুল্ক ২১ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে পাল্টা ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে অটোয়া। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পানীয় (বিয়ার, ওয়াইন, বারবার্ন, ফ্লোরিডা অরেঞ্জ জুস) এবং গৃহস্থালি পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রুডো বলেন, শুল্কের কারণে অসাধারণভাবে সফল একটি বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি এটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর মধ্যে স্বাক্ষর করা মুক্তবাণিজ্যের চুক্তিকে লঙ্ঘন করবে।
অন্যদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বলেছেন, তিনি তার প্রদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিকেল রপ্তানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থামিয়ে দিতে প্রস্তুত। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেনবামের পক্ষ থেকেও ঘোষণা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্দার শঙ্কা
উত্তর আমেরিকার অর্থনীতি আন্তঃসীমান্ত রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই দেশগুলো গাড়ি ও যন্ত্র তৈরি করে, জ্বালানি পরিশোধন করে এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে।
কানাডার চেম্বার অব কমার্সের প্রধান নির্বাহী ক্যানডেস লেইঙ এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আজকের বেপরোয়া আচরণ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে মন্দা, চাকরি হারানো ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্প যে স্বর্ণযুগের কথা বলছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না। বরং এটি ভোক্তা ও উৎপাদকদের জন্য খরচ বৃদ্ধি করবে এবং সরবরাহ চেইনে বাধা সৃষ্টি করবে। লেইঙ বলেন, ‘শুল্ক মূলত আমেরিকান মানুষের ওপর কর।’
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরপরই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে কানাডিয়ান ডলার ও মেক্সিকান পেসোর দাম কমেছে। ট্রাম্প নিজের আমেরিকা প্রথম নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আসে এমনভাবে বাণিজ্যকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন। তবে এতে হিতে বিপরীতই বেশি হবে বলে এরই মধ্যে জানিয়ে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স