জাস্টিন ট্রুডোর উত্তরসূরি হিসেবে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন মার্ক কার্নি। গত রবিবার তাকে নির্বাচিত করেছে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
৫৯ বছর বয়সী এ প্রার্থী তিনজনকে পরাজিত করেছেন এবং ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড।
রাজধানী অটোয়ায় লিবারেল পার্টির প্রায় ১ হাজার ৬০০ সমর্থকের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা করা হয়। তখনই চারিদিকে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। দলের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়, এই নির্বাচনে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, কয়েকদিনের মধ্যেই শপথ নেবেন কার্নি। এদিকে, নির্বাচিত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
জয়লাভের পর সংসদে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করবেন কার্নি। এরপর তার সামনে দুটি সুযোগ থাকছে, হয় তিনি নিজেই একটি দ্রুত সাধারণ নির্বাচন ডাকবেন কিংবা বিরোধী দলগুলোর আস্থা ভোটের মাধ্যমে চলতি মাসেই তাকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।
জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর থেকে লিবারেল পার্টির রাজনীতিতে বেশ নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য হুমকি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করা নিয়ে তার অবস্থানের কারণে কানাডিয়ানদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ উজ্জীবিত হয়েছে, যা লিবারেলদের প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ ভাষণে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের সমালোচনা করেন কার্নি। মুক্তবাণিজ্যের প্রতিশ্রুতি না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্কারোপ বহাল রাখা হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
বিবিসির খবরে আরও বলা হচ্ছে, লিবারেল পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী কার্নি তিন প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিজয়ী ভাষণের বেশির ভাগ অংশেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।
কার্নি বলেন, ‘আমেরিকানদের কোনো ভুল করা উচিত নয়। হকির মতো বাণিজ্যের খেলায়ও জিতবে কানাডা।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ছাড়াও কানাডার আগামী নির্বাচনে লিবারেল পার্টি থেকে অংশ নেবেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে বলে জানানো হয়েছে।
বিবিসির খবর বলছে, কার্নি এর আগে কখনো নির্বাচিত হননি। লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচন শুরু হয়েছিল গত জানুয়ারিতে। এর আগে এক দশকের মতো ক্ষমতায় ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো।
ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগ করেন। তার সময়ে কানাডায় আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে করে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।
চলতি বছরের শুরুতে লিবারেলরা বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি থেকে প্রায় ২০ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। তবে সম্প্রতি সেই ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। কিছু জরিপে দেখা গেছে যে লিবারেল ও কনজারভেটিভরা এখন প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে।
কার্নি মঞ্চে ওঠার কিছু আগে জাস্টিন ট্রুডো আবেগঘন বিদায়ী ভাষণ দেন। তিনি তার ১২ বছরের লিবারেল নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘কানাডা এখন ট্রাম্পশাসিত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি।’ সূত্র: বিবিসি