পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলা চালিয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ভিত্তিক সশস্ত্র গ্রুপ বেলুচ লিবারেশন আর্মি দাবি করেছে যে, তারা প্রথমে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে এবং পরে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করেছে।
তারা ১০০-এরও বেশি যাত্রীকে আটকে রেখেছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে। তবে রেলওয়ে নিয়ন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জিম্মির সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে পারে।
ট্রেনটি বিপুলসংখ্যক সেনা সদস্যকে বহন করছিল। এ কারণে মূলত তাদেরকেই মূল টার্গেট করেছিল বেলুচ লিবারেশন আর্মি।
হামলার ফলে ছয়জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তকর্তা জানিয়েছেন, সিবি নামক দুর্গম এলাকার একটি টানেলের কাছে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি দুর্গম ও পাথরবেষ্টিত হওয়ায় দ্রুত কোনো অভিযান চালানো যাচ্ছে না।
বেলুচিস্তান প্রদেশের সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিকিউরিটি ফোর্স পাঠানো হয়েছে কিন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে কোয়েটার সকল হাসপাতালে ডক্টর, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুত রাখার আদেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বেলুচ লিবারেশন আর্মি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নামে তাহলে তারা জিম্মিদের হত্যা করবে।
এদিকে, দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ে ইতোমধ্যে একটি সহায়তা ট্রেন পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তান হলো পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইরান এ আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন বড় একটি প্রদেশ। এখানে বেলুচ সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস। তারা পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানকে আলাদা করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। আফগানিস্তান ও ইরানে বড় সংখ্যক বেলুচ জনগোষ্ঠী বাস করে। তিন দেশের ভেতর থেকে ভূখণ্ড নিয়ে বেলুচিস্তান রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্য তাদের। তাই এখানে সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষ বেড়ে চলছে। তারা অঞ্চলটিতে থাকা বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ তারা নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সূত্র: ডন
মাহফুজ/