বর্তমানে চীনকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অপরাধী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সৃষ্টি হওয়া নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সারসংক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
মঙ্গলবার ( ২৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড গত মঙ্গলবার এক সিনেট শুনানিতে উল্লেখ করেন, ‘বিদ্যমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত প্রতিযোগী হচ্ছে চীন।‘
এই প্রতিবেদনে বলা হয়,বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি চীন। বিশেষ করে তাইওয়ানের উপর বেইজিংয়ের ‘জবরদস্তিমূলক চাপ’ এবং ‘মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর উপর সাইবার অভিযানের’ মতো বিষয়গুলোকে উদ্বেগজনক হিসেব উল্লেখ করা হয়।
এই ধরনের কর্মকাণ্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টিকেই নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বেইজিং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করার জন্য তার ‘জবরদস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব’ আরও সম্প্রসারিত করবে। তাদের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটন তাদের অবদমিত করার চেষ্টা করছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে উৎখাতের জন্য কাজ করছে। এমন চিন্তাভাবনা থেকে তারা এর পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সেখানে বলা হয়, এমনকী প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে চীন। এছাড়া তাইওয়ান দখলের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। তাই নিজেদের মূল স্বার্থ রক্ষা এবং নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৃশ্যমান উত্তেজনা কমাতে চাইবে দেশটি।
আবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেকে ‘অত্যধিক আক্রমণাত্মক’ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের তুলনায় চীন অনেক বেশি সতর্ক ছিল।
অন্যদিকে গত বুধবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কথা বলার সময় চীনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মার্কিন প্রতিবেদনটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘চীনের হুমকিকে অতিরঞ্জিত’ করে দেখানোর অভিযোগ করেন।
তার ভাষায়, আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। কাউকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বা কারও স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কোনো ধরনের ইচ্ছা বেইজিংয়ের নেই। সূত্র: এএফপি
দিনা/