চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। এমন একটি সময় দেশটির পক্ষ থেকে এ খবর এল যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করছে এবং রপ্তানিকারকরা শুল্কের রেশ সহ্য করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) চীনের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ৫ শতাংশ, সেবা খাত ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। খুচরা বিক্রি ও কৃষি খাত বেড়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ব্যুরো চীনের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে লিখেছে, জাতীয় অর্থনীতির ভালো সূচনা হয়েছে এবং নতুন ও ইতিবাচক মুহূর্তের মাধ্যমে উচ্চ-মানসম্পন্ন উন্নয়নের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে একে অন্যের ওপর শুল্ক আরোপ করছে। এতে করে বড় মাপে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ রকমটি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তি নড়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
হংকংয়ের বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মুখ্য অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গারসিয়া-হেরেরো বলেন, ‘তারা মূলত অত্যন্ত ইতিবাচক রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে। ফলে আরও প্রতিকূল দ্বিতীয় প্রান্তিক দেখা দিতে পারে বলে ধরে নিতে পারেন।’
ট্রাম্প চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ দেশটির বড় বড় রপ্তানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় চীনও পাল্টা ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। দেশটি বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই শুল্ক নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে তারা।
আইএনজির চীনবিষয়ক মুখ্য অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেন, বেইজিং নিজেদের ২০২৫ সালের প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঠিক রাখতে আগামীতে আরও আর্থিক ও রাজস্ববিষয়ক প্রণোদনা সামনে নিয়ে আসতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা