অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শিশুটির মা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার আক্রান্ত হন। এ কারণে পাঁচ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা প্রথমে মায়ের গর্ভ থেকে জরায়ুসহ বাচ্চাটিকে সরিয়ে নেন। পরে সেই নারীর ক্যান্সার অপসারণ করে জরায়ু আবার মাতৃদেহে স্থাপন করেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর এই নারী স্বাভাবিকভাবে বাচ্চাটি প্রসব করেন। এভাবেই একই শিশু দুই বার জন্মগ্রহণ করে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে ঘটে যাওয়া এই বিরল ঘটনার খবর জানায়।
জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম রাখা হয় র্যাফার্টি আইজ্যাক। কিছুদিন আগে বাচ্চাকে নিয়ে তার মা লুসি জন র্যাডক্লিফ হাসপাতালে চিকিৎসক সোলেইমানি মাজদকে ধন্যবাদ জানাতে যান। এ সময় তাদের দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ড. মাজদ।
৩২ বছর বয়সী লুসি যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের সময় তার ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, সন্তান জন্মের পর চিকিৎসা শুরু করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা লুসির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার ইতোমধ্যে কয়েকমাস পার হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ সার্জারি সম্ভব ছিল না। তাই ড. মাজদের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক জটিল পদ্ধতিটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। বিশ্বব্যাপী মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার সম্পন্ন হওয়া এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে জরায়ু ও শিশুকে অস্থায়ীভাবে শরীরের বাইরে এনে চিকিৎসা করা হয়। ঝুঁকি সত্ত্বেও লুসি ও তার স্বামী অ্যাডাম চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখেন। এরপর অক্টোবরে লুসিকে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা।
ড. মাজদ বলেন, লুসির ক্যান্সার অনেকটা গুরুতর ধাপে পৌঁছে যায়। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট জটিল হয়ে পড়ে। তবে, সবকিছু শেষপর্যন্ত ঠিকঠাক সম্পন্ন হয় এবং শিশুটি জানুয়ারিতে ভূমিষ্ঠ হয়।
শিশু র্যাফেটির জন্মের সময় অনুভূতি স্মরণ করে অ্যাডাম বলেন, এত সংগ্রামের পর র্যাফেটিকে কোলে নেওয়া ছিল আমাদের জন্য অবিস্মরণীয় এক মুহূর্ত।
আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার আগে ক্যান্সারের কোনো লক্ষণ টের পাননি লুসি। এজন্য ঠিকভাবে চিকিৎসা করে বাচ্চার জন্ম দিতে পারার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল
দিনা/অমিয়/