ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে জোরেশোরেই আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে। নতুন করে আবারও আলাপে বসতে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) মস্কো সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত। তবে কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে।
এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্যেষ্ঠ জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক গাড়িবোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনীয়দের পরিকল্পিত হামলাতেই তিনি মারা গেছেন। তবে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি ইউক্রেন। নীতি হিসেবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুখ খোলে না ইউক্রেন।
ইউক্রেনকে শান্তিচুক্তির জন্য রাশিয়ার হাতে কিছু এলাকা ছেড়ে দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিতশ্চিকো। গত বৃহস্পতিবার বিবিসির কাছে ওই মন্তব্য করেন তিনি। এমন একটি সময় তার এ মন্তব্য সামনে এল, যখন দ্রুত শান্তিচুক্তি করা নিয়ে ইউক্রেন ও মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ বাড়ছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, একটি সম্ভাব্যতা হলো অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া। এটি ন্যায্য নয়, সাময়িক শান্তি। তবে এটি একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে। ৫৩ বছর বয়সী এ মেয়র আরও বলেন, ইউক্রেনের জনসাধারণ কখনো রাশিয়ার দখল মেনে নেবে না।
এদিকে কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ওই অঞ্চলে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮০ জন। ইউক্রেনের রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণগুলোর মধ্যে এটি একটি।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে। পরে বিভিন্ন সময় ইউক্রেনের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা দখলে নেয়। মস্কো এখন ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্লিৎশ্চিকোর এ মন্তব্য অনেক দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে। তিনি দেশটির ওই গুটিকয়েক রাজনীতিবিদদের একজন, যিনি প্রকাশ্যেই এলাকা ছেড়ে দিতে হতে পারে- বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কিয়েভের মেয়র ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। মেয়র এর আগে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে তার কর্তৃত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি ও তার দল।
ক্লিৎশ্চিকো বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইউক্রেনের রাজধানীর দায়িত্বে রয়েছেন। কিয়েভকে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হৃৎপিণ্ড বলেও আখ্যা দেন। ক্লিৎশ্চিকো বলেন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বাধ্য করা হতে পারে শান্তির জন্য এই বেদনাদায়ক সমাধান মেনে নিতে।
জেলেনস্কি তার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কোনো আলাপ করছেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না। এটি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজেই দেখছেন। আমার কাজ সেটি না।’
ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে হয়ে যাওয়া নজিরবিহীন বাদানুবাদ প্রসঙ্গে ক্লিৎশ্চিকো বলেন, শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ভিডিও ক্যামেরা ছাড়াই আলোচনা করা উচিত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প জেলেনস্কির বিরুদ্ধে শান্তি আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। ইউক্রেনীয় নেতা এরই মধ্যে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়াকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ২০১৪ সালে মস্কো অবৈধভাবে ক্রিমিয়ার ওই উপদ্বীপটি বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যায়।
ট্রাম্প বলেছেন, ক্রিমিয়া বহু আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে ইউক্রেনের এবং এটি এখন আর আলোচনার বিষয় না। অন্যদিকে জেলেনস্কি ২০১৮ সালে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ক্রিমিয়া ঘোষণাপত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে বলা আছে যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওই অধিগ্রহণকে প্রত্যাখ্যান করছে।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মস্কোর জন্য সুবিধাজনক হবে, এ রকম চুক্তি ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেবে। সূত্র: বিবিসি