প্রায় দুবছর ধরে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত সুদানের একমাত্র ও সর্বশেষ নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত এলাকা পোর্ট সুদানে হামলা চালিয়েছে প্যারামিলিটারি ফোর্স র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। পোর্ট সুদানে একই সঙ্গে বিমানঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর অবস্থিত। রাজধানী খার্তুমে হামলা চলমান থাকায় সুদানের পূর্বাঞ্চলের লোহিত সাগর তীরবর্তী এ বন্দর এলাকাটিকে বিবদমান দুপক্ষই নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এ হামলার মাধ্যমে নিরাপদ অঞ্চলটিও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হলো।
সুদানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাবিল আব্দুল্লাহ জানান, পোর্ট সুদানের বিমানঘাঁটি, অস্ত্রের গুদাম, কার্গো পরিবহন অবকাঠামো ও কিছু বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ। হামলার শিকার বিমানঘাঁটি ও বেসামরিক বিমানবন্দর একই এলাকায় অবস্থিত যা সুদানের একমাত্র সচল বেসামরিক বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও বিমানবন্দর ও কার্গো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করা হয়েছে। হামলার পরপর কিছু ফ্লাইটকে আকাশ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুদানের এ দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ সংঘাত পুরোপুরি দুভাগে বিভক্ত। সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান। অন্যদিকে আরএসএফকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুহামেদ হামদান হেমিদতি দেগুলু। গৃহযুদ্ধের কারণে সেখানে এখন পুরোপুরি মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। জাতিসংঘ সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, সংঘাতের ফলে দেশটিতে ক্ষুধা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে দেশটির ১০টি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চলছে এবং ১৭টি অঞ্চল অতিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সুদানের প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মানবিক সাহায্য ও সুরক্ষা প্রয়োজন।
২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ একসঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বসিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে। পরে আরএসএফকে (আধা সামরিক বাহিনী) সেনাবাহিনীতে নিয়মিতকরণ ও ক্ষমতার ভাগ দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব শুরু হয় যা পরে পূর্ণঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বর্তমানে সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমসহ দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আরএসএফ দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। সূত্র: আল-জাজিরা