গাজায় ‘২৪ জনের কম’ জিম্মি এখনো জীবিত রয়েছেন- এই মন্তব্য করে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু বিপাকে পড়েছেন। মাইকে কথা বলার সময় অসাবধানতাবশত তিনি একথা বলে ফেলেন ।
তার এই মন্তব্য জিম্মি পরিবারগুলোকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাদের ভাষ্য, তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্য সরকারের হাতে অথচ তারা এমনভাবে সে তথ্য প্রকাশ করছে যেন মনে হচ্ছে, জিম্মিদের সম্পর্কে তারা যা জানে, সেটি দেশের মানুষকে জানানো হয় না।
সোমবার ( ৫ মে) প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে (২৮ এপ্রিল) ছুটির দিনে জিম্মি পরিবারগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, ‘এ যুদ্ধে শুধু জয় লাভ করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জিম্মিদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। আজ পর্যন্ত আমরা ১৯৬ জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি, যাদের মধ্যে ১৪৭ জন জীবিত ছিল। অন্যদের মধ্যে... সর্বোচ্চ ২৪ জন জীবিত রয়েছে। সর্বোচ্চ ২৪ জন।’
এ কথা বলার সময় নেতানিয়াহুর ডান পাশে বসা সারা নেতানিয়াহুকে ধীরে ধীরে বলতে শোনা যায়, ‘এর চেয়েও কম হবে!’
এসময় নেতানিয়াহু দ্রুত জবাব দিয়ে বলেন, ‘আমি বলেছি, সর্বোচ্চ ২৪ জন। আর অন্যরা, দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা কেউ জীবিত নেই।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী গাজায় বর্তমানে ৫৯ জন জিম্মি রয়েছেন। ইসরায়েল সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জা্নায়, তাদের ধারণা, এই ৫৯ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪ জন এখনো জীবিত আছেন।
এই বৈঠকের সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি ইঙ্গিত দেয়, ইসরায়েলের সরকারের কাছে হয়তো এমন তথ্য রয়েছে, ‘২৪ জনের মধ্যে কিছু জিম্মি মারা গেছেন।’ অর্থাৎ সঠিক কতজন জীবিত, এটা তাদের জানা নেই। আর জানা থাকলেও বিষয়টিকে তারা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সিএনএনকে বলেন, তিন জিম্মিকে নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ রয়েছে। তবে ইসরায়েল নিশ্চিতভাবে জানায়নি, তারা মারা গেছেন নাকি বেঁচে আছেন।
এর আগে কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা শেরি বিবাস ও তার দুই সন্তানকে নিয়ে একই কথা বলে। শেরি বিবাস ও তার সন্তানেরা জীবিত আছেন। কিন্তু জিম্মি বিনিময়ের সময় দেখা গেছে, তারা কেউই জীবিত নেই।
জিম্মি পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রীর এমন কথোপকথনের পর ব্যাপক সমালোচনা করেছে। জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবার ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানে আপনারা জিম্মি পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা না দিয়ে উল্টো আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছেন; পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।’
সংগঠনটি দাবি করেছে, ‘যদি আমাদের প্রিয়জনদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা নতুন তথ্য আপনাদের কাছে থাকে, তা প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। তারা আরও জানতে চেয়েছেন, কেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী তাদের প্রিয়জনদের সম্পর্কে এমন সংবেদনশীল তথ্য জানেন, যা তারা জানেন না।
সূত্র: সিএনএন
দিনা/