সাত দশকের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকেই এ নিয়ে গণ্ডগোল শুরু হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখণ্ড কাশ্মীর নিয়ে এরই মধ্যে দুটি যুদ্ধ করেছে। দুই দেশই ওই অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নিজেদের বলে দাবি করে। দুই পাশের হাতেই রয়েছে ভূস্বর্গ খ্যাত অঞ্চলটির আংশিক নিয়ন্ত্রণ।
শুধু ভারত বা পাকিস্তান নয়, কাশ্মীরের কিছু অংশ চীনের হাতেও রয়েছে। সেটি বিশ্বের অন্যতম অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সামরিকায়িত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুসারে, ব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর সে সময় বিদ্যমান রাজকীয় শাসকদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তৎকালীন কাশ্মীরের মহারাজা ছিলেন হরি সিং। তিনি হিন্দু শাসক হলেও অঞ্চলটি ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে কাশ্মীর নিয়ে তিনি সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য পরিষেবা বজায় রাখার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ‘স্থবির’ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে বিলম্ব করতে শুরু করেন কোন দেশের সঙ্গে যোগ দেবেন, তা জানানো নিয়ে।
তবে হিসাব পাল্টে যায় ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে। মুসলিমদের ওপর আক্রমণের খবরে ও হরি সিং-এর বিলম্ব করতে থাকা কৌশলে হতাশ হয়ে পাকিস্তানের নৃগোষ্ঠী কাশ্মীরে আক্রমণ করে।
মহারাজা সিং তখন ভারতের সামরিক সহায়তা চান। সেই মাসেই হরি সিং ‘অধিগ্রহণ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন, যার মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতির নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরের ভূখণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ দখলে নেয়। অন্যদিকে পাকিস্তান উত্তরের বাকি অংশ দখল করে। ১৯৫০-এর দশকে এসে চীন কাশ্মীরের পূর্ব অংশ আকসাই চিন দখল করে।
ভারতের সঙ্গে ‘অধিগ্রহণ চুক্তি’ আগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, নাকি ভারতীয় সেনা আগে প্রবেশ করেছিল, সেটি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় বিতর্ক চলে আসছে।
ভারত জোর দিয়ে দাবি করে যে মহারাজা প্রথমে স্বাক্ষর করেছিলেন, ফলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বৈধ। অন্যদিকে পাকিস্তানের ভাষ্য হলো মহারাজা ভারতের সৈন্য প্রবেশের আগে স্বাক্ষর করেননি, তাই আদতে এ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ভারত ও মহারাজা পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া ‘স্থগিত চুক্তি’ লঙ্ঘন করেছেন।
পাকিস্তান কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ গণভোট দাবি করে। অন্যদিকে ভারত বলে যে কাশ্মীরিরা ধারাবাহিকভাবে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া কিছু কাশ্মীরি রয়েছে, যারা স্বাধীনতা চায়। তবে ভারত বা পাকিস্তান কেউই তাদের দাবি মেনে নিতে রাজি না। কয়েক দশক ধরেই দুই পক্ষ এই অবস্থান নিয়ে রয়েছে। সে অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
কাশ্মীর প্রশ্নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে ২০১৯ সালে। ভারতের আইনসভায় সে সময় কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়।
সে সময় থেকে ভারত সরকার বারবার দাবি করেছে যে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ থামানো গেছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনার পর ভারত সরকারের সে দাবি নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: বিবিসি