ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে ১১৫ জন মারা গেছেন। হামলার পর ধসে পড়া ভবন থেকে কান্নার শব্দ শোনা গেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, বেইত লাহিয়া ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বাড়িগুলোতে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই হামলা হয়। ফলে ভেতরে থাকা পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়া অনেকের কান্নার শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। আশপাশের মানুষ চেষ্টা করেও তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। এ ছাড়া খান ইউনিসেও এক গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উত্তর গাজার বিপর্যয়কর চিত্র ফুটে উঠেছে। উপত্যকাটির হাসপাতালগুলোর জরুরি সেবা কোনো রকমে টিকে আছে। রসদস্বল্পতায় কর্মক্ষমতা স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সেখানে প্রতিনিয়ত আসছেন আহতরা। অনেককে মাটিতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধি এবং হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ সিনাওয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও গোষ্ঠীটি নিজেদের অবস্থানে পরিবর্তন আনেনি। তারা যুক্তরাষ্ট্র-প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রাজি হয়নি।
এক সূত্র জানায়, ‘ইসরায়েলের অবস্থান অনমনীয়, হামাস হাল ছাড়েনি, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করে দেশের পথে এবং উইটকফ আর এর সঙ্গে (আলোচনা) জড়িত নন।’
এদিকে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর গতকাল শেষ হয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তার পক্ষে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, গাজার মানুষ ক্ষুধায় কষ্ট করছেন এবং আগামী বেশ কিছু ভালো খবর আসবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মূলত তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ইসরায়েলিদের গাজা যুদ্ধ সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় সমর্থন রয়েছে কি না তার।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আগামী মাসে অনেক ভালো কিছুই হতে পারে এবং আমরা সেগুলো দেখব। আমাদের ফিলিস্তিনিদেরও সহায়তা করতে হবে। আপনারা জানেন, অনেক ভালো মানুষও ক্ষুধায় কষ্ট করছেন। আমাদের দুই দিকেই নজর দিতে হবে।’ সূত্র: আল-জাজিরা