ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির যে নির্দেশনা তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’ রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু

মরিশাসকে যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের জটিলতাসমূহ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৫, ১০:৪৫ এএম
মরিশাসকে যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের জটিলতাসমূহ
ছবি:  সংগৃহীত

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও মরিশাস সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শেষ মুহূর্তে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, দুই চাগোসীয় নারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে বিচারপতি গুজ এই আদেশ দেন। এর ফলে চুক্তিটি স্বাক্ষরের আগেই স্থগিত করা হয়।

কিন্তু তার আগে দীর্ঘ আইনি চ্যালেঞ্জ এবং মাসের পর মাস সমালোচনার পর কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এই চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের কাছে যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। 

তবে এই দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি আরও ৯৯ বছরের জন্য ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা এই চুক্তিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। বার্নাডেট ডুগাস ও বার্ট্রিস পম্প নামে চাগোসের দুজন নারী তাদের জন্মভূমি দিয়েগো গার্সিয়ায় গিয়ে বসবাস করতে চেয়ে সম্ভাব্য চুক্তিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলা করা দুই নারীর আইনজীবী মাইকেল পোলাক বলেন, ‘চাগোসবাসীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ না করেই সরকার তাদের জন্মভূমি দিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা চাগোসবাসীদের প্রতি অতীতের নিষ্ঠুর আচরণেরই ধারাবাহিকতা।’ 

তবে প্রস্তাবিত চুক্তিটি হোক বা না হোক বর্তমান ব্যবস্থায়ও গার্সিয়া দ্বীপে চাগোসবাসীদের ফেরার অনুমতি নেই।

চুক্তি নিয়ে চাগোসবাসীদের হতাশা ও ক্ষোভ বৃহস্পতিবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব ডেভিড ল্যামি ও মন্ত্রী স্টিফেন ডোটি চাগোসীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ‘চাগোসিয়ান ভয়েস’ সংগঠনের সদস্য জেমি সাইমন বলেন, ‘এই চুক্তিতে আমাদের জন্য ভালো কিছু নেই। আমি আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ।’

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ১৯৬৫ সালে মরিশাস থেকে আলাদা করা হয়। সে সময় ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে ছিল মরিশাস। সে সময় মাত্র ৩০ লাখ পাউন্ডে দ্বীপগুলো কিনে নিয়েছিল ব্রিটেন। তবে মরিশাসের দাবি, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য চাপে পড়ে তারা এসব দ্বীপকে আইনবহির্ভূরতভাবে হারাতে হয়েছিল। 

এরপর ১৯৭১ সালে একটি অভিবাসন আদেশের মাধ্যমে চাগোসবাসীদের নিজেদের জন্মভূমিতে ফেরত আসা নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘের আদালত ও সাধারণ পরিষদ সম্প্রতি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মরিশাসের পক্ষে অবস্থান নেয়। ২০১৯ সালে  দ্বীপটির অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) রায় দেয় যে, ব্রিটেনের উচিত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দ্বীপপুঞ্জগুলো ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে এখানকার ‘জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে’ উপনিবেশমুক্ত করা যায়। তবে এই রায়টি উপদেষমূলক হলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ব্যাপক সমর্থন নিয়ে অনুমোদিত হয়।

তবে বর্তমানে চাগোসবাসীদের মধ্যে অনেক ধরণের মতপার্থক্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ দ্বীপে ফিরে যেতে চান, কেউ আবার চান যুক্তরাজ্যে নিজেদের অধিকার ও অবস্থান নিশ্চিত করতে। আবার অনেকে মনে করেন বাইরের কোনো শক্তি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করুক।

২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি। লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা আবারও এগোতে শুরু করে। 

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, কেননা এই জটিলতার কারণে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

আবার কিছু বিরোধীরা দাবি করছেন, মরিশাসের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ব্রিটিশ চাগোসীয়দের স্বার্থকে অবহেলা করা হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে আছে চাগোসবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সূত্র: সিএনএন

সুলতানা দিনা/

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট

ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?
ছবি: সংগৃীহত

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে এই বাড়িটি বহু বিখ্যাত নেতার সাক্ষী হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এখানে কাটিয়েছেন মোট ৯ বছর। ১৯৮০-এর দশকে ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর এবং টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা এক দশক এখানে বাস করেছেন।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মালপত্র গোছানোর আগেই অনেককে বিদায় নিতে হয়েছে। শুধু গত চার বছরেই চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন দেখেছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম

যুক্তরাজ্যের ভোটাররা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো সরাসরি তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। এর পরিবর্তে, ভোটাররা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এর সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন। পার্লামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, সাধারণত সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় নেতা পরিবর্তন করতে পারে। যদি কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে পদ ছাড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব চলে যায়।

এই ব্যবস্থার কারণে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দলটির হাতেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে যেকোনো সময় আগাম নির্বাচন দিতে পারে। গত এক দশকে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে, যা দেশটির রাজনীতিতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্রেক্সিট: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জটিল বিচ্ছেদ

এই রাজনৈতিক সংকটের শুরু ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) গণভোটের মাধ্যমে। ওই ভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় জনগণ। এর ফলে দেশটির রাজনীতিতে যে বড় ধরনের মেরূকরণ শুরু হয়, তার প্রভাব এখনো চলছে।

তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি বলেছিলেন, তিনি জিতলে ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে গণভোট দেবেন। নির্বাচনে জিতে তিনি ক্ষমতায় ফিরলেও গণভোটের ফলাফল তার পক্ষে যায়নি। তিনি ইইউ-তে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। দলটির অনেক পুরোনো ভোটার দল ছেড়ে পপুলিস্ট বা জনমতভিত্তিক ব্রেক্সিট আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রথাগত শ্রমজীবী শ্রেণির সমর্থকরাও ব্রেক্সিটকে সমর্থন করেন।

মে, জনসন, ট্রাস ও সুনাক যুগ

ব্রেক্সিট আন্দোলনের সময় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ইইউ থেকে বের হলে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) বড় তহবিল পাবে। কিন্তু করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্টো ব্রিটেনজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।

ক্যামেরনের পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া থেরেসা মে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ২০১৯ সালে চোখের জলে বিদায় নেন। এরপর ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বরিস জনসন। অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সময়েই রেকর্ডসংখ্যক মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করে, যা দলের প্রতি জনগণের আস্থা ধসিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত লকডাউনের নিয়ম ভেঙে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করা (পার্টিগেট কেলেঙ্কারি) এবং এক যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত নেতাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জনসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর লিজ ট্রাস আসেন, যিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থেকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তার কর ছাড়ের বিতর্কিত ‘মিনি-বাজেট’ আর্থিক বাজারে ধস নামায়। ট্রাসের পর আসেন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর টিকলেও মহামারি ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করতে পারেননি। ফলে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে দলটির বিশাল পরাজয় ঘটে।

লেবার পার্টিতেও সংকট, দোরগোড়ায় কি নতুন কেউ?

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তার সরকারও এখন খাদের কিনারায়। নীতি পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা নিয়ে স্টারমার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তত দুজন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েছেন ব্রেক্সিটের অন্যতম কারিগর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ। তার দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সাম্প্রতিক নির্বাচনে দারুণ ফলাফল করে মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।

আইন অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগস্টের আগে স্টারমারকে নির্বাচন ডাকতে হবে। তিনি যদি দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারেন, তবে হয়তো ততদিন টিকে থাকবেন। কিন্তু তার ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে। দল যদি নতুন কোনো নেতা নির্বাচন করে, তবে ২০২৯ সালের আগেই দেশে নতুন সাধারণ নির্বাচনের দাবি জোরালো হবে।

ওপিনিয়ন রিসার্চ সংস্থা ‘মোর ইন কমন’-এর ইউকে ডিরেক্টর লিউক ট্রিল বলেন, ‘২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি ভোটই মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। জনগণ আধুনিক ব্রিটেনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিসি নিউজ

মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ সংশোধন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) ১২টি মানবাধিকার সংস্থা। তারা বলেছে, এই খসড়া আইনটি মানবাধিকার সুরক্ষা এবং কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। নতুন এই বিলের মাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে একটি মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে সরকার সেই অধ্যাদেশটি বাতিল করে দেয়। নতুন খসড়া আইনটি ওই অধ্যাদেশের চেয়ে অনেক দুর্বল। এটি কমিশনের কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেবে বলে সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সংস্থাগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে গুম, নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত বন্ধ করতে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনটি উল্টো পথে হাঁটছে। এটি পাস হলে মানবাধিকার কমিশন একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো ক্ষমতা এর থাকবে না।

আন্তর্জাতিক প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন হতে হয়। কিন্তু নতুন বিলে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে। আগের অধ্যাদেশে বাছাই কমিটিতে গণমাধ্যম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার নিয়ম ছিল। নতুন বিলে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত যারা করবেন, তাদের বাছাই করার মূল দায়িত্বে থাকবে সরকার নিজেই।

বিলটিতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহি থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠে। কিন্তু নতুন খসড়া অনুযায়ী কমিশন নিজে এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধান বা সরকারের দেওয়া রিপোর্টের ওপর কমিশনকে নির্ভর করতে হবে। 

সংস্থাগুলো সরকারকে এই বিলটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আইনটি সংশোধনের দাবি তুলেছে। তারা কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানায়।

এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিভিকাস (ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (এএফএডি), অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চার (এপিটি), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট (সিপিজেপি), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ), অধিকার, রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/