ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

মাস্ক-ট্রাম্প বিবাদে ‘অ্যাপস্টেইন ফাইলস’ যেভাবে আলোচনায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৫, ০৭:২২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৫, ০৯:১২ পিএম
মাস্ক-ট্রাম্প বিবাদে ‘অ্যাপস্টেইন ফাইলস’ যেভাবে আলোচনায়
জেফরি অ্যাপস্টেইনের (ডান দিক থেকে  দ্বিতীয়) সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক এখন ব্যক্তিগত লড়াইয়ের দিকে মোড় নিয়েছে। মাস্ক অভিযোগ করেছে, প্রয়াত যৌন অপরাধী এবং পাচারকারী জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম আছে। যদিও এ সম্পর্কে কোন প্রমাণ তিনি প্রকাশ করেননি। 

মাস্কের এই অভিযোগের পরপরই ট্রাম্প কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মাস্কের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘মাস্ক নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

মাস্কের এই অভিযোগ আসার পর ডেমোক্র্যাটরা আবার নড়েচড়ে বসেছে। ফলে অ্যাপস্টেইনের ফাইলগুলো আবার আলোচনায় এসেছে এবং ইতোমধ্যেই সেগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রকাশের দাবি উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরাও সবগুলো নথি প্রকাশের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে।

এরপরই ৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া এবং ম্যাসাচুসেটস প্রতিনিধি স্টিফেন এফ. লিঞ্চ , তদারকি ও সরকার সংস্কার সংক্রান্ত হাউস কমিটির ডেমোক্র্যাটিক সদস্য মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলকে একটি চিঠি পাঠান।

এই চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লিখছি যে, অভিযোগ উঠেছে যে দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি অ্যাপস্টেইন সম্পর্কিত ফাইলগুলি প্রকাশ করা হয়নি এবং আমেরিকান জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি কারণ সেগুলি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সাথে জড়িত । তাহলে কি ট্রাম্প কি অ্যাপস্টেইনের ফাইলগুলি আটকে রাখছেন?

চিঠিটি পড়ে হোয়াইট হাউস প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানায়, এই পদক্ষেপ আরেকটি স্টান্ট যা ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সাথে কোনও মিল নেই।
 
অ্যাপস্টেইনের ফাইল সম্পর্কে যা জানা যায়

গত বছরের ২৭শে ফেব্রুয়ারি - ট্রাম্প প্রশাসনের হাই-প্রোফাইল মামলার বিষয়ে আরও স্বচ্ছ হওয়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, বন্ডি অ্যাপস্টেইন সম্পর্কিত ১০০ পৃষ্ঠারও বেশি গোপন নথি প্রকাশ করা হয় । 

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প, ২০১৯ সালে অ্যাপস্টেইনের গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যার পর থেকে তার ক্লায়েন্ট তালিকা নিয়ে যে দাবি উঠে তা স্পষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।

যদিও তখন বলা হয়, এটি গোপন নথি প্রকাশের ‘প্রথম পর্যায়’। কিন্তু প্রকাশিত পৃষ্ঠাগুলো দেখে মানুষ হতাশ হন কারণ বেশিরভাগ লেখাই সম্পাদনা করা ছিল।

এছাড়া এসময় নিউ ইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে জানায়, বন্ডির প্রকাশনায় অ্যাপস্টেইনের ‘কালো বই’ নামে যে বই প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মতো ব্যক্তির নাম ছিল। তাছাড়া বইটিতে এমন কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল যাদের সাথে অ্যাপস্টেন কখনও দেখাও করেননি, এবং তালিকাভুক্ত নামগুলো অ্যাপস্টেইনের কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত নয়।

ট্রাম্প ও অ্যাপস্টেইনের কয়েক দশকের সম্পর্ক 

ট্রাম্প ও অ্যাপস্টেইনের বন্ধুত্ব শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। তারা নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন অভিজাত অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যেতেন। তবে ২০০৪ সালের পর একটি রিয়েল এস্টেট চুক্তিতে মতবিরোধের কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

২০০২ সালে নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান , এপস্টাইনের সাথে তার খুব মজার সম্পর্ক ছিল। এমনকি তিনি আরও জানান,  তিনি আমার মতোই সুন্দরী মহিলাদের পছন্দ করেন, এবং তাদের অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিকে তার আগ্রহ একটু বেশি।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে, এনবিসি নিউজ টুডে ১৯৯২ সালের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে, যেখানে ট্রাম্পকে তার মার-এ-লাগো এস্টেটে এপস্টাইনকে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়। এ সময় দুজনকে কথা বলতে বলতে হাসতে দেখা যায়।

তবে ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে এপস্টাইন গ্রেপ্তার হওয়ার পর, ট্রাম্প নিজেকে তার থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। 

২০১৯ সালে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তার (এপস্টাইনের) সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছিল। আমি ১৫ বছর ধরে তার সাথে কথা বলিনি। তাছড়া আমি তার ভক্ত ছিলাম না, এটা আমি আপনাদের বলতে পারি।

এদিকে ২০১৪ সালে ইলন মাস্ককেও অ্যাপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একটি পার্টিতে দেখা গিয়েছিল। ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল ২০২২ সালে যৌন পাচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। তার আপিল ২০২৪ সালে খারিজ হয়।

কে এই জেফরি অ্যাপস্টেইন ?

জেফরি অ্যাপস্টেইন ছিলেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন ফাইন্যান্সিয়াল উদ্যোক্তা। ২০০০-এর দশকে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তবে প্রথম দফায় মাত্র ১৩ মাস জেল খেটে মুক্তি পান।

এরপর ২০১৯ সালে নতুন করে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগ পরে জানায়, তার মৃত্যু ছিল নজরদারির ঘাটতি, অবহেলা এবং জেল কর্মীদের ব্যর্থতার ফল।

অ্যাপস্টেইনের মৃত্যুর পর একাধিক মামলার সূত্রে এবং তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে হাজার হাজার পৃষ্ঠা নথি জনসমক্ষে আসে। এসব নথিতে মার্কিন ও বিদেশি রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে আসে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত সর্বশেষ নথিপত্র প্রকাশিত হয়।

ফাইলগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ম্যাজিশিয়ান ডেভিড কপারফিল্ড এবং এক ভুক্তভোগীর বয়ানে মাইকেল জ্যাকসনের নামও আসে। তবে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। 

এই মুহূর্তে মাস্ক ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। মাস্কের এই অভিযোগ ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সুলতানা দিনা/

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসের লার্নাকায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর ২২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি ছাত্রের।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাংলাদেশি ছাত্রের বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণের পাশাপাশি অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার তরুণকে তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা মরদেহ এবং একটি ছুরি খুঁজে পায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, এই ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ওরোক্লিনির বাড়ি থেকে স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার সময় লার্নাকা থেকে অপহৃত হন। 

এর আগে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া সাহায্যের জন্য তার বাবাকেও বার্তা পাঠান। এর পরই তার মােবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ছাত্রের বাবা কয়েকটি ফোন থেকে কল পান, যেসব কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার পর, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোরে পুনরায় বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ জুন) মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে আসা মোট ৫৯টি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউক্রেনের শহরগুলোতে রুশ হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়, তবে এসব ড্রোন ইউক্রেন থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সোবিয়ানিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আমান/