ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সংবলিত কয়েক হাজার গোপন নথি এখন ইরানের হাতে।
শনিবার (৭ জুন) বার্তাসংস্থা এএফপি ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট পৃথক দুই প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, ‘ইরানের গোয়েন্দারা ইহুদিবাদীদের বিপুল, গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকাতর গোপন নথি হাতে পেয়েছে।’
ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এবং হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদানে এ খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। তবে ইসরায়েলের কোন কোন গোপন নথি ইরানি গোয়েন্দারা পেয়েছেন তার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে এসবের মধ্যে কয়েক হাজার নথি রয়েছে যেগুলো ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো সংক্রান্ত।— এমনটা বলা হয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।
তাসনিম নিউজ জানায়, একটি গোপন অভিযান চালিয়ে এসব নথি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছেন ইরানি গোয়েন্দারা। যারমধ্যে অসংখ্য ছবি ও ভিডিও-ও আছে।
এসব নথি-ছবি-ভিডিও হাতে পাওয়ার পর ইরানি গোয়েন্দারা সেগুলো নিরাপত্তার সাথে ইরানে পাঠান। এরপর এগুলো চুলচেড়া বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার (৭ জুন) ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট জানায়, গত মে মাসে দুই ইসরায়েলি নাগরিকের বিরুদ্ধে একজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অভিযোগ ওঠে। ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাদেরকে গুপ্তচর ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার (০৬ জুন)ইসরায়েলের অ্যাটর্নি-জেনারেলের অফিস ঘোষণা করে যে, ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের পক্ষে একাধিক গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউশন রোই মিজরাহি এবং আলমোগ আতিয়াসের বিরুদ্ধে বিয়ারশেবা জেলা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছে।
মে মাসে দায়ের করা এক ইসরায়েলি অভিযোগ অনুসারে, ২৫ বছর বয়সী রোই মিজরাহি এবং আলমোগ আত্তিয়াস নামের দুই ইসরায়েলি একজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যিনি তাদেরকে গুপ্তচর ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
যদিও সাম্প্রতিক ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের সাথে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র নেই, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, এই সন্দেহভাজনরা কথিত গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন।
সুলতানা দিনা/