আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা আছে এবং তাদের কাছে অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও আছে। কিন্তু বর্তমানে দেশটির কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার মধ্যে গত শনিবার আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিয়নকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএইএর প্রধান এ তথ্য জানান।
গ্রোসি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ইরান সফরে যাবেন। তার এই সফরের লক্ষ্য হবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি কমানো।
ইরানের পরমাণু ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে কয়েক দশক ধরে উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর। অভিযোগ রয়েছে, পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বরাবরই এই অভিযোগ নাকচ করে আসছে।
ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও অনেক আলাপ-আলোচনার পর ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদকালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এতে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন চুক্তির জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প। গত মার্চে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইরানকে চিঠি দেন তিনি। তবে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় তেহরান।
এরপর ট্রাম্প হুমকি দেন, নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানে বোমা হামলা চালাবেন তিনি। শুধু হুমকিই নয়, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ভারত মহাসাগরে দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে বোমারু বিমানও মোতায়েন করেছে।
তবে ট্রাম্পের এ হুমকি খুব একটা পাত্তা দেয়নি ইরান। বরং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না। ইরানে হামলা হলে তার কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
পাশাপাশি তেহরান জানায়, সরাসরি আলোচনা নয়, পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময়ে আগ্রহী তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি অন্য পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে না।