সংঘাতের সপ্তম দিনে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হামলার শুরুটা করে ইসরায়েল। সকালে ইরানের আরাক, নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় ৪০টির মতো বিমান ওই হামলায় অংশ নেয়।
এর পর থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লাগাতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। নতুন করে চালানো হামলায় অন্তত ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান। যেগুলোর বেশ কয়েকটি সরাসরি বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
ইরানের এই হামলায় বৃহস্পতিবার এক দিনে ইসরায়েলে ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল খুবই শক্তিশালী। এতে ইসরায়েলের হোলোন, তেল আবিব ও রামাতগান শহরে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিরশেবা শহরের সোরোকা হাসপাতালে আঘাত হানে। তবে ইরান বলেছে, বিরশেবা শহরে তাদের আসল লক্ষ্য ছিল হাসপাতালের পাশে থাকা সামরিক স্থাপনা। হাসপাতাল তাদের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল না।
সিএনএন জানিয়েছে, সকাল থেকেই তেল আবিবে আছড়ে পড়তে শুরু করে একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল তেল আবিব ও জেরুজালেমে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে। টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জরুরি সেবা দলগুলো এখন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ছুটছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার কারণে দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশটির মেডিকেল সার্ভিস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র যেসব জায়গায় আঘাত হেনেছে, সেখান থেকে ১৩৭ জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে তারা। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, গতকাল ইরানি হামলায় ৮৯ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তেল আবিব এবং উত্তরাঞ্চলে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, বেশির ভাগ বিস্ফোরণ এবং শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়েছেন।
যেসব স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
ইরান গতকাল ইসরায়েলের হোলোন, বেইত আল-মাকদি (জেরুজালেম), তেল আবিব ও রামাতগানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (গতকাল) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হোলোন শহরে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রামাতগান এলাকায় প্রায় ২০ জন হালকা আঘাত পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। রাজধানী তেল আবিবেও হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি ছিল ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ১৪তম শক্তিশালী সমন্বিত হামলা’, যা তারা বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনার ওপর চালিয়েছে।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদদাতা হুগো বুশেগা জানাচ্ছেন, গতকালের হামলায় ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সোরোকা হাসপাতাল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ভয় না পেয়ে দৃঢ় থাকুন: খামেনি
ইসরায়েলের আগ্রাসনে ভয় না পেয়ে দৃঢ় থাকতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জনগণের প্রতি এই আহ্বান জানান খামেনি। বিবিসির খবরে বলা হয়, খামেনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন; সেই আচরণই আরও দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যান।’
‘কঠিন দিনগুলো কাটিয়ে উঠব’: ইরানি প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, তিনি সরকারের প্রতিটি অংশকে ‘ইরানের জন্য কাজ করার’ নির্দেশ দিয়েছেন। সব মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সব এজেন্সিকে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করে ইরানের জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে। কোনো কিছুর প্রতি বিমুখ না হয়ে আপনাদের ধৈর্য ও সমর্থন প্রয়োজন।’ ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আল্লাহর কৃপায় আমরা এই কঠিন দিনগুলো কাটিয়ে উঠব।’
কতটা ক্ষতি হলো হাসপাতালের
ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর ইসরায়েলের সোরোকা হাসপাতাল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরিই ওই ভবনে আছড়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সোরোকা হাসপাতালের ডিরেক্টর জেনারেল শ্লোমি কোদেশ বিবিসিকে বলেছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো হাসপাতালে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে। ভবন, কাঠামো, জানালা, সিলিং সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, হামলার আগে হাসপাতালের উত্তর ব্লকের সার্জিক্যাল ভবন থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। গত কয়েক দিনে হাসপাতালের বেশির ভাগ বেড থেকেই রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোরোকা হাসপাতালে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী, ভাঙা জানালা এবং আতঙ্কিত মানুষদের চিৎকার করতে করতে করিডর দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল অভিযোগ করেছেন, ইরান ইচ্ছা করে সোরোকা হাসপাতালকে টার্গেট করেছে।
আইআরজিসির স্থল বাহিনীর নতুন কমান্ডার নিযুক্ত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আইআরজিসির প্রধানের প্রস্তাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামিকে আইআরজিসি স্থল বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ইসরায়েলি আক্রমণে নিহত হোসেইন সালামির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই আইআরজিসির প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থল বাহিনীর তৎকালীন প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরকে আইআরজিসির নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা: আইআরএনএ
গতকাল সকালে ইসরায়েলের বিরশেবা শহরের সোরোকা হাসপাতালের পাশে একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর মতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি ‘কমান্ড ও গোয়েন্দা সদর দপ্তর (আইডিএফ-সিফোরআই)’ এবং গাভ-ইয়াম টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত একটি সেনা গোয়েন্দা ক্যাম্পের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, ‘হাসপাতাল মূলত বিস্ফোরণের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। আসল লক্ষ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো, আর সেটিই সরাসরি ও নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে।’ গাভ-ইয়াম নেগেভ টেকনোলজি পার্কের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘এটি বেন গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং আইডিএফ-সিফোরআই ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থিত।’
আরাক ও নাতাঞ্জ পরমাণু চুল্লিতে হামলা
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরানের আরাক ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক চুল্লিতে হামলা চালিয়েছে। তবে আরাক চুল্লিটি বর্তমানে ‘নিষ্ক্রিয়’ অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, আরাক চুল্লিটি এমনভাবে তৈরি যে এটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই হামলা প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত অংশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যাতে চুল্লিটি পুনরায় চালু করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা না যায়।’
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এর আগেও দেশটির সবচেয়ে বড় পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ওই হামলায় ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে থাকা সেন্ট্রিফিউজগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সম্ভবত ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, ইরান সম্প্রতি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে ‘অস্ত্র তৈরির পথে’ নিয়ে যাচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পারমাণবিক বোমা দুটির জন্যই ব্যবহৃত হতে পারে।
আইডিএফ জানায়, তাদের সর্বশেষ হামলায় ৪০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং ইরানের বহু সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল প্রস্তুতের কারখানা, যন্ত্রাংশ তৈরির কেন্দ্র এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্র।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলের সোরোকা হাসপাতালে ইরানের হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আজ (বৃহস্পতিার) সকালে ইরানের সন্ত্রাসী অত্যাচারীরা বিরশেবার সোরোকা হাসপাতালে এবং মধ্যাঞ্চলে সাধারণ মানুষের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা তেহরানের সেই অত্যাচারীদের থেকে পুরো মূল্য আদায় করব।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও একই সুরে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানকে এর পরিণাম ভুগতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অস্তিত্ব আর থাকতে দেওয়া যাবে না।’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সোরোকা হাসপাতাল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খামেনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালগুলোয় গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।’
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিমান সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আল-জাজিরা খবর দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে বহু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহা থেকে কিছুটা বাইরে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটি। গতকাল কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি সতর্কতা জারি করেছে। এতে তাদের কর্মীদের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে প্রবেশে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গত বুধবার প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসির তোলা একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ঘাঁটির টারমাকে (উড্ডয়ন ও অবতরণ এলাকা) যেসব যুদ্ধবিমান, পরিবহন উড়োজাহাজ ও ড্রোন সাধারণত পার্ক করা থাকে, সেগুলোর বেশির ভাগই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই ঘাঁটিতে একাধিক সি-১৭ পরিবহন বিমান, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা ড্রোন দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এর আগে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি থেকেও একই ধরনের উড়োজাহাজ ও নৌজাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি সামরিক কৌশল, যার মাধ্যমে যুদ্ধ বা হামলার ঝুঁকি থাকলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
জাতিসংঘে ইরানের অভিযোগ
আরাক পারমাণবিক চুল্লি, নাতাঞ্জসহ বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কাছে অভিযোগ করেছে ইরান। সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি আগ্রাসন অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেছে ইরান। আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।