ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য!

যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই যেভাবে শুরু হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৫, ০১:২৪ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই যেভাবে শুরু হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সব অগ্রগতির অধ্যায় এখানেই শেষ। 

অন্যদিকে, শনিবার (২১ জুন) ইরান বলছে, তারা মার্কিন হামলার একদিন আগেই ফোর্দো থেকে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সরঞ্জাম ও উপকরণ সরিয়ে নিয়েছে। তাছাড়া, এ স্থাপনায় এমন কোনো ক্ষতি হয়নি যে, সেটি আবার মেরামত করা সম্ভব নয়।

এটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা একটি দীর্ঘ এবং জটিল গল্পের প্রায় সর্বশেষ মোড়। যেটি মূলত ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই শুরু হয়।
 
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আদ্যোপান্ত 
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৫৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার তার ‘শান্তির জন্য পরমাণু’ বিষয়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান এবং অন্যান্য দেশগুলোকে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি বিকাশে সহায়তা করার কথা জানান। যাতে, এই দেশগুলো শান্তিপূর্ণ, বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের একটি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তীতে কোনো সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি না নেয়।

এরপর, ১৯৫৭ সালে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তার প্রথম পারমাণবিক চুল্লি এবং জ্বালানি সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র। ৫ মেগাওয়াটের সেই পারমাণবিক চুল্লি এখনো তেহরানে কার্যকর রয়েছে।

আইজেনহাওয়ার আরও জানান, শান্তির জন্য পরমাণু কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ইরানে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা। 

তারপর, ১৯৬৭ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আমেরিকা এই পারমাণবিক চুল্লিটি তৈরি করে। তারা ইরানকে সেই চুল্লির জ্বালানিও (অস্ত্র-গ্রেড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) সরবরাহ করে।

তখন ইরানে মার্কিন-সমর্থিত রাজা শাহ রেজা পাহলভির শাসন চলছিল। আর ইরান ছাড়াও এই সুবিধাভোগী দেশের মধ্যে ছিল ইসরায়েল, ভারত এবং পাকিস্তান। তখন ইরানসহ বাকি দেশগুলো এই কর্মসূচির অধীনে তাদের নিজস্ব ছোট পারমাণবিক চুল্লি এবং তাদের নিজস্ব জ্বালানি পায়। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে ইরানে তেলের ভাণ্ডারের বিশাল উত্থানের ফলে তাদের সেই স্বল্প পরিসরের পারমাণবিক কর্মসূচি একটি পূর্ণাঙ্গ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হয়। সে সময় ইরানের কাছে প্রদত্ত জ্ঞান কাজে লাগানোর এবং বৈজ্ঞানিক মনন বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ছিল।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাহলভির সরকার কয়েক ডজন ইরানি শিক্ষার্থীকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পারমাণবিক প্রকৌশল নিয়ে অধ্যয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা করে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। এমআইটিতে প্রশিক্ষিত এই ইরানি শিক্ষার্থীরাই পরে দেশে ফিরে নিজের দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা শুরু করেন। তখন থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার তেহরানে ইরানের শাহ রেজা পাহলভির সঙ্গে দেখা করেন এবং ১৯৬০-এর দশকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানকে তার প্রথম পারমাণবিক গবেষণা চুল্লি সরবরাহ করে।

এরপর, ১৯৭০-এর দশকে এমন একটা মুহূর্ত আসে যখন আমেরিকান কর্মকর্তারা অনুধাবন করতে শুরু করেন যে, তারা হয়তো ভুল করছেন। তারা আশঙ্কা করেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টাকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠবে। এরপর, মার্কিন কূটনীতিকরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য আলোচনা শুরু করেন। সে সময় পাহলভির অধীনস্থ ইরান জোর দিয়ে জানিয়ে দেয়, তাদেরও যেকোনো জাতির মতো পারমাণবিক শক্তির অধিকার রয়েছে!

সে সময় শাহ রেজা পাহলভি বলেন, ‘যদি না স্পষ্ট হয় যে, ইরানকে দ্বিতীয় শ্রেণির দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, তাহলে তিনি বিকল্প বিক্রেতাদের সন্ধান করবেন এবং ইরানের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের জন্য তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর কাজ করবেন না।’

এর পরই ইরান পশ্চিম জার্মানি এবং ফ্রান্স থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা চুল্লিটিতে কাজ করতে থাকে। 
তার পরই তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাসটি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ১৯৭৯ সালে পাহলভির পতনের পর, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে নতুন ইসলামপন্থি সরকার আসে। সে সময় প্রতি শুক্রবার হাজার হাজার মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে তাদের নামাজের জায়গাটিকে মক্কার দিকে ঘুরিয়ে দিতেন। নামাজের সময় সেখানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান শোনা যেত।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবে নির্বাসন থেকে ফিরে শাহকে উৎখাত করে আয়াতুল্লাহ খামেনি সমর্থকদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পশ্চিমা প্রভাবের প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না।

এক সময় এই খামেনিই বলেছিলেন, বুশেহরের অসমাপ্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গম সংরক্ষণের জন্য সাইলো হিসেবে ব্যবহার করা উচিত! সে সময় অনেক ইরানির ধারণা ছিল, তেল সমৃদ্ধ একটি জাতির ওপর পশ্চিমাদের ব্যয়বহুল চিন্তা চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই এগুলো পরিত্যক্ত করা হয়েছিল।

এই মনোভাব ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত টিকে ছিল। কিন্তু ততক্ষণে ইরান সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিবেশী ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে সাদ্দাম বারবার বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালান, যা তখন কার্যকর ছিল না। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধ ইরানে তীব্র বিদ্যুৎসংকট তৈরি করে।

অবশেষে, ইরানের নেতারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এর সঠিক কারণ স্পষ্ট ছিল না।

১৯৯৭ সালে দিকের কথা, ইরানে প্রতিদিনই খুব ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতো। সম্ভবত পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এই বিষয়টিই ইরানিদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।

মঞ্চে ইসরায়েলের প্রবেশ
ঠিক এই সময়ই এই মঞ্চে ইসরায়েলের প্রবেশ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিটি যখন গতিশীল হতে থাকে, তখনই ইসরায়েল বারবারই সতর্ক করতে শুরু করে যে ইরান বিপজ্জনক পারমাণবিক অগ্রগতি করছে। ইসরায়েল এ অঞ্চলে ইরানকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। আবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর হামলার পরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও আরও তীব্র হয়।

২০০০ সালে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দেয়। এমনকি ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছে। কিন্তু বুশ প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তাতে স্বাক্ষর  করা থেকে বিরত থাকে। 

চুক্তির প্রচেষ্টাতে ব্যর্থ হয়েই ইরান হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ তৈরি শুরু করে, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। এই আখ্যানকে ঘিরেই ইরানে জাতীয়তাবাদের এক নতুন অনুভূতি তৈরি হয়।

২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসেন জনপ্রিয় নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তিনি হলোকস্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং বুশ প্রশাসনকে অমান্য করতে শুরু করেন। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একজন জোরালো সমর্থক এবং পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। 

এরপর কয়েক দশক আগের পাহলভির মতো, নতুন এই ইরানও জোর দিয়ে বলতে শুরু করে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার রয়েছে। এমনকি জনগণ যখন অস্থির হয়ে উঠছিল এবং ইরানের অর্থনীতি যখন তীব্র পতনের দিকে যাচ্ছিল, তখনো আহমাদিনেজাদ তার অবস্থান ধরে রাখেন।

২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদ পুনরায় নির্বাচিত হলে ওবামার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করলে তা ভেঙে যায়। তখন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করে।

২০১৩ সালে হাসান রুহানি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন। দেশটির চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী ধর্মগুরুরা এটি অনুমোদন করেছিলেন। এদিকে, ইরানি কূটনীতিকরা ইতোমধ্যেই চুপচাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

আমেরিকান কূটনীতিক উইলিয়াম বার্নস, যিনি বর্তমানে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সভাপতি, সেই গোপন আলোচনায় আমেরিকান পক্ষের নেতৃত্ব দেন। তিনি মনে করেন, ইরানের জন্য আপসের এখনই সঠিক সময়। ২০১৩ সালের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ২০১৩ জানুয়ারিতে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করে ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে পারমাণবিক চুক্তির দিকে পরিচালিত আলোচনাকে সমর্থন করেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সেসময় যুক্তি দিয়েছিলেন, একটি চুক্তি সম্ভব- যদি ইরানকে কিছু মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

কার্যত, ওবামা প্রশাসন এই যুক্তি মেনেও নিয়েছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, সেসময় ইরান নিশ্চিত করেছিল ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ সীমিত থাকবে, পরিদর্শনের মাধ্যমে এটি যাচাই করা যাবে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাদের প্রচেষ্টার অনুমতি দিয়েছিলেন।

চুক্তিটি কার্যকর করতে তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। আর প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা সেই গল্পের একটি মাইলফলক হচ্ছে আজকের ইরান-ইসরায়েল-যুক্ররাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত। যে গল্প এখনও শেষ হয়নি।  

সুলতানা দিনা/অমিয়/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসের লার্নাকায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর ২২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি ছাত্রের।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাংলাদেশি ছাত্রের বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণের পাশাপাশি অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার তরুণকে তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা মরদেহ এবং একটি ছুরি খুঁজে পায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, এই ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ওরোক্লিনির বাড়ি থেকে স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার সময় লার্নাকা থেকে অপহৃত হন। 

এর আগে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া সাহায্যের জন্য তার বাবাকেও বার্তা পাঠান। এর পরই তার মােবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ছাত্রের বাবা কয়েকটি ফোন থেকে কল পান, যেসব কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার পর, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোরে পুনরায় বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ জুন) মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে আসা মোট ৫৯টি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউক্রেনের শহরগুলোতে রুশ হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়, তবে এসব ড্রোন ইউক্রেন থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সোবিয়ানিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আমান/

দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী
বেগোনা গোমেজ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজ দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তদন্তকারী বিচারকের প্রাথমিক শুনানির পর এই আদেশ দেওয়া হয়।

গত এপ্রিলে ৫৫ বছর বয়সী গোমেজের বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কিছু প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি চুক্তি পাইয়ে দিয়েছিলেন এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন জনবল নিয়োগ ও সফটওয়্যার ব্যবহারে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করেছেন।

প্রসিকিউটররা তার ২৪ বছরের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং মাসে দুই বার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গোমেজের আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ না থাকলেও, এই তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্থগিত করে পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন। তবে পরে তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সূত্র: আরটি

তামান্না রুপা/অমিয়/