ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা: ইরানে উসকে উঠছে জাতীয়তাবাদ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা: ইরানে উসকে উঠছে জাতীয়তাবাদ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বহু মানুষ হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে ইরান। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরোধীরাও এই মুহূর্তে দেশের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। জাতীয়তাবাদ জেগে উঠছে। 

প্রায় ৪৫ বছর ধরে নিঃশব্দে চলছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। মাঝে মাঝে উত্তেজনা চরমে উঠলেও দুপক্ষ কখনো সরাসরি একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। সংঘর্ষ হয়েছে মূলত তৃতীয় দেশের ভেতর, বিশেষ করে ইরাকে। ইরাকের মাটিতে ইরানের সমর্থিত হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনা সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সেটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার কারণ। 

তিনি ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন এক শাসকের বিরুদ্ধে, যিনি কখনো নিজের হাতে আক্রমণ চালাননি, বরং সব সময় অন্যদের ব্যবহার করে কাজ করিয়ে নিয়েছেন।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ছিলেন দখলদার বাহিনী। সড়কে টহলের সময় তারা চলতেন ভারী বর্মে আচ্ছাদিত হামভিতে। কারণ ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীরা ব্যবহার করত এমন বোমা, যেগুলো তামার গোলক ছুড়ে এই বর্ম ভেদ করতে পারত। এম১ আব্রামস ট্যাংকও এসব থেকে রক্ষা পেত না। যারা বেঁচে যেতেন, তারা অনেক সময় হাত বা পা হারাতেন। 

ইরাক যুদ্ধের মার্কিন সামরিক নথি অনুযায়ী, এই বিস্ফোরকে ব্যবহৃত তামার পাতের একটি চালান আটক করা হয়েছিল। যেগুলো ছিল ইরানের একটি ল্যাবে তৈরি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে এসব অস্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তারা নিজেরাও লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় এসব বোমা হামলার শিকার হয়েছিলেন। হিজবুল্লাহ গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ত্র দেয় ইরান। ২০০৩ সালে আমেরিকার ইরাক আগ্রাসনের পর তেহরান এসব প্রযুক্তি হিজবুল্লাহর মাধ্যমে মাঠে নামায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতার শুরু ১৯৭৯ সালে। তখন সাধারণ ইরানিরা বিদ্রোহ করেন যুক্তরাষ্ট্রপন্থি শাহের বিরুদ্ধে। এই শাহ ছিলেন সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সহায়তায় ক্ষমতায় আসা একজন রাজা, যিনি হটিয়ে দিয়েছিলেন তেল জাতীয়করণের পক্ষে থাকা এক জনপ্রিয় নির্বাচিত সরকারকে। ওই সরকার এক ব্রিটিশ তেল কোম্পানিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

আজও তেহরানের একটি ভবনের দেয়ালে আঁকা আছে আমেরিকার পতাকা, যেখানে তারার জায়গায় খুলি ও ডোরাকাটা অংশে বোমার চিত্র। বহু বছর পরও দেয়ালচিত্রটি নতুন করে রং করা হয়। ওই স্থানে এখনো স্পষ্ট ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’- এই বিখ্যাত স্লোগান লেখা।

এই ভবনটিই একসময় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, এখন পরিচিত ‘গোয়েন্দাদের গুহা’ নামে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় এখানেই হামলা চালায় খোমেনির অনুসারীরা। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন ওই বিপ্লবের নেতা। তাকেই টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭৯ সালের বর্ষসেরা ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। (তাকে যেন মিলিয়ে না ফেলা হয় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনির সঙ্গে। যিনি এখন নাকি নিজের উত্তরসূরি বেছে নিচ্ছেন)।

দূতাবাস ভবনটি এখন একটি জাদুঘর। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণবিষয়ক তথ্য এবং বুকিং ওয়েবসাইট ট্রিপঅ্যাডভাইজার একে কার্যকর জাদুঘর হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিপ্লবীরা যখন দেয়াল ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকছিলেন, তখন মার্কিন কূটনীতিকরা গোপন নথি কুচিয়ে ফেলছিলেন। ওই এক-আধ ইঞ্চি টুকরো করা কাগজ এখন টেবিলে সাজানো, অনেক কাগজ জোড়া লাগানো হয়েছে-গোটা দৃশ্যেই ধরা পড়ে বিপ্লবের উত্তেজনা।

৪৪৪ দিন ধরে ৫০ জনের বেশি মার্কিন কূটনীতিক সেখানে বন্দি ছিলেন। ওই অপমানের ইতিহাসে আমেরিকা এখনো ক্ষুব্ধ। এবার তাদের হামলায় ইরানও একই রকম অপমানবোধ করছে।

তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক জায়গা হলো- যখন যুদ্ধ ইরানের ভেতরে শুরু হয়, তখন তা ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো এক জাতিকে জাগিয়ে তোলে। 

ইরানের অনেক নাগরিক শাসকদের ঘৃণা করলেও বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়ান। ১৩ জুন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ঘাঁটি থেকে তেহরানে ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হামলা চালানো হয়। অনেকে বিস্ময়ে দেখছিলেন। তেহরানে রসিকতা চলছে- ইরানের পাল্টা হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মোসাদের সদর দপ্তর, কিন্তু ওটা খালি ছিল। কারণ সব এজেন্ট তখন তেহরানেই!

২০০২ সালে ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সে সময় সংস্কারের পক্ষে একটি আন্দোলন হয়। তখন অনেকে ভেবেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদলানো সম্ভব। কিন্তু ওই সংস্কারবাদী আন্দোলন ব্যর্থ হয়। সরকার বুঝে যায়, জনসমর্থন নেই। তখন তারা প্রতিবাদ দমন করা শুরু করে এবং গোপনে পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলে।

ইরানের নানা প্রান্তেই বহু মানুষ শাসকবিরোধী। ছোট শহর থেকে রাজধানী পর্যন্ত প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে। তবে বোমা আঘাত হানলে হিসাব বদলায়। প্রথম রাতে ইসরায়েল শুধু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালেও পরে তারা তেল শোধনাগার ও পানি সরবরাহ লাইনেও আঘাত হানে। রাজধানীর উত্তরের তাজরিশ স্কয়ারে এক বোমায় মারা যান খ্যাতনামা এক গ্রাফিক ডিজাইনার, যিনি সেই সময় ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গাজা যেন ছায়ার মতো তাড়া করছে ইসরায়েলের প্রতিটি অভিযানে। ইরানের পাল্টা হামলায় যখন ইসরায়েলিরা নিহত হন, তখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুমকি দেন- ‘তেহরান পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।’

এদিকে ইরানের ভেতরে যারা সরকারের সমালোচক, তারাও এখন বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক আন্দোলনকারীরা বলেন-

‘এই দেশের ইতিহাসের সংকটময় মুহূর্তে, যখন আমরা একটি বর্ণবাদী ইসরায়েলি সরকারের আগ্রাসনের মুখে, তখন আমরা এই হামলার নিন্দা জানাই। আমরা যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করি। কারণ আমরা মনে করি, এটি আমাদের নাগরিক সমাজের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রয়াসকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা আমাদের মাতৃভূমির অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। আমরা এই অঞ্চলে শান্তির পক্ষেও।’

তেহরানে পারমাণবিক গবেষণা চুল্লির আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সরকার পটাসিয়াম আয়োডাইড ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে। যেটি তেজস্ক্রিয়তা থেকে গলা রক্ষা করতে সাহায্য করে। ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে যেসব স্থাপনায় বোমা পড়েছে, সেগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। সেখানে রেডিয়েশন ছড়ানোর ঝুঁকি কম। কিন্তু তেহরানের চুল্লি ব্যতিক্রম। এটি ১৯৬৭ সালে আমেরিকা স্থাপন করেছিল। শহরের মাঝখানে ৯০ লাখ মানুষের আবাস। বলা হয়েছে, কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নির্দেশ পেলে নির্দিষ্ট বয়সীদের এই ওষুধ খেতে হবে। অথচ ওই টেলিভিশন চ্যানেলেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

এখন প্রশ্ন, এরপর কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে ইরানের শাসকদের আচরণের ওপর। তারা কখনো খুব জনপ্রিয় ছিলেন না। কিন্তু যখন ইরানের ভেতরে বিদেশি সেনা আসে, তখন জাতি একত্র হয়। ইরানে সরকারবিরোধিতা আছে, কিন্তু মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসাও প্রবল।

এই জাতীয় গর্ব ইসলামের আগের সময় থেকে চলে আসছে। ইরানের মালভূমিতে আজও কেউ কেউ পালন করেন প্রাচীন জরথ্রুস্ট ধর্ম- বিশ্বের প্রথম একেশ্বরবাদী ধর্ম, যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল এক সাম্রাজ্য। এই ঐতিহ্য এখনো ইরানিদের মনে গেঁথে আছে।

এই গর্ব ধরা পড়ে নামের মধ্যেও- দারিওস, কাইরাস; যেটি পারস্য সম্রাটদের নাম। পার্সেপোলিসের ধ্বংসাবশেষে খোদাই করা চিত্রে দেখা যায়, বিশ্ববাসী নতজানু হয়ে পারস্য শাসকের সামনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। অনেক ইরানি এখনকার পারমাণবিক কর্মসূচিকেই সেই ঐতিহ্যের অংশ মনে করেন। তাদের মতে, এটি ‘অপরিহার্য অধিকার’। কারণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির সদস্যরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।

তেহরানে এখন দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন জনসমর্থনহীন সরকার নতুন করে কিছুটা সমর্থন ফিরে পাচ্ছে। 

এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুকে বলেন, ‘খামেনি যদি পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধও করতেন, তবু ইসরায়েল হামলা চালাত। তাদের উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা।’

লেখক: টাইম পত্রিকার জেরুজালেম ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। টাইম থেকে অনুবাদ: এম আর লিটন

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসের লার্নাকায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর ২২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি ছাত্রের।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাংলাদেশি ছাত্রের বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণের পাশাপাশি অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার তরুণকে তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা মরদেহ এবং একটি ছুরি খুঁজে পায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, এই ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ওরোক্লিনির বাড়ি থেকে স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার সময় লার্নাকা থেকে অপহৃত হন। 

এর আগে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া সাহায্যের জন্য তার বাবাকেও বার্তা পাঠান। এর পরই তার মােবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ছাত্রের বাবা কয়েকটি ফোন থেকে কল পান, যেসব কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার পর, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোরে পুনরায় বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ জুন) মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে আসা মোট ৫৯টি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউক্রেনের শহরগুলোতে রুশ হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়, তবে এসব ড্রোন ইউক্রেন থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সোবিয়ানিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আমান/