ইউক্রেনে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অংশে হামলা হয়েছে। রাতভর ওই হামলার জেরে শুক্রবার (৪ জুলাই) কিয়েভের ওপর দেখা যায় কালো ধোঁয়া। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অংশে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার বাহিনী।
ইউক্রেনের দেওয়া তথ্যানুসারে, রাশিয়া সারা রাত ধরে ৫৫০টি ড্রোন ও ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগে ফোনে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রস্তুত নয়। বিষয়টি তাকে ‘হতাশ’ করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার হামলার জবাব দিয়েছে ইউক্রেন। তাদের চালানো পাল্টা হামলায় এক রুশ নারী মারা গেছেন। রাশিয়ার দক্ষিণের অঞ্চল রোস্তভের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর বলেন, ওই নারী ইউক্রেনের সীমান্তের কাছের একটি গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সেখানে হামলার কবলে পড়েন তিনি।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কিয়েভে আকাশ প্রতিরক্ষা সংকেত বেজেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এরই মধ্যে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি এ যুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আক্রমণগুলোর একটি, যেখানে কিয়েভবাসী কঠিন পরিস্থিতিতে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন ফোনালাপের পর এ হামলা হয়েছে বিষয়টি তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া আরও একবার প্রমাণ করল যে তারা এ যুদ্ধ শেষ করতে চায় না।’ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মিত্রদের জেলেনস্কি অনুরোধ জানিয়েছেন মস্কোর ওপর যথাযথ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জরুরি সেবার প্রকাশ করা ছবিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কিয়েভে আগুন নেভাতে কাজ করতে দেখা গেছে। রাশিয়ার বড় মাপে হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
কিয়েভে রাশিয়ার আক্রমণে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, তাদের রেলপথ অবকাঠামো, স্কুল, ভবন ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্ল সিকোরস্কি জানান, রুশ হামলায় পোলিশ দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার হামলায় সুমি, খারকিভ ও চেরনিহিভেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক সময় তা বড় আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে বড় মাপের হামলা চালাচ্ছে। তবে বিষয়টি উল্টো হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ এতদিনে অবসানের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক টেবিলে বসেছেও ইউক্রেন-রাশিয়া। কিন্তু হামলা থামেনি বা এটির কোনো প্রভাব যুদ্ধের ওপর পড়েনি। বরং বলা যায় বেড়েছে। তবে ওই আলোচনার জেরে দুই পক্ষই কয়েক দফায় যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিয়েছে।
ক্রেমলিন আবারও বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মূল কারণ তারা শনাক্ত করে সমূলে উৎপাটনের চেষ্টা করবে। পুতিন চাইছেন ইউক্রেন রাশিয়ার বলয়ে ফিরে যাক। গত সপ্তাহে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেনও, পুরো ইউক্রেনই আমাদের।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ইউক্রেনে কিছু অস্ত্রের সরবরাহ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে সিদ্ধান্তের পরই সামনে এল জেলেনস্কির এ বক্তব্য।
কিয়েভ অবশ্য এরই মধ্যে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত তাদের রাশিয়ার অগ্রগতির মুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। এদিকে ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ত্র দিচ্ছি। আমরা একেবারে অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করিনি।’ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও দোষ দেন। তিনি বলেন, ‘বাইডেন আমাদের পুরো দেশকে ফাঁকা করে তাদের অস্ত্র দিয়েছে এবং আগে আমাদের এটি নিশ্চিত করতে হবে যে নিজেদের জন্য যথেষ্ট রয়েছে।’ সূত্র: বিবিসি