কেনিয়া জুড়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছেন।
সোমবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের সময় তাদের অন্তত ৫২ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ গণতন্ত্রপন্থী সমাবেশের ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। এই সমাবেশ কেনিয়ার তরুণদের মধ্যে সরকারবিরোধী ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যারা ইতিমধ্যেই দুর্নীতি, পুলিশি বর্বরতা এবং সরকারি সমালোচকদের অপহরণের অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (কেএনএইচসিআর) জানায়, এ সময় ২৯ জন আহত হয়েছেন এবং মোট ৫৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেনিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলন ‘সাবা সাবা’–এর ৩৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এবার বিক্ষোভটি কেনিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগের দাবিতে বড় আকার ধারণ করে। সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।
এদিন রাজধানী নাইরোবিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীদের অনেককে শিস বাজিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়।তখন রাস্তায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সরাসরি গুলি ও জলকামান ব্যবহার করে।
১৯৯০ সালের ৭ জুলাই কেনিয়ার গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকে স্থানীয় কিসওয়াহিলি ভাষায় ‘সাবা সাবা’ (‘সাত সাত’) আন্দোলন বলে অভিহিত করা হয়। বহু দলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে কেনিয়ার তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল মোইয়ের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন হয়েছিল। দিনটির স্মরণে প্রতি বছর জুলাইয়ের ৭ তারিখ কেনিয়ার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
তবে এবারের সাবা সাবা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ দাবিতে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়।
সিএনএন জানায়, পুলিশ শহরের কেন্দ্রের দিকে যাওয়া প্রায় সব প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখলে বিক্ষোভকারীরা সেগুলো অতিক্রম করে এগোনোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
গত মাসেও দুর্নীতি, পুলিশি নির্যাতন এবং সরকারবিরোধীদের গুমের প্রতিবাদে হওয়া অনুরূপ বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নেয়। কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটস জানায়, গত মাসের বিক্ষোভে সারা দেশে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সশস্ত্র ভাড়াটে লোক পাঠিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, এই বিক্ষোভ ‘একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা’।
রাজনৈতিকভাবে ২০২২ সালে নির্বাচিত রুটো এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি প্রধান বিরোধী নেতা রাইলা ওডিঙ্গার সঙ্গে একটি জোট গঠন করেছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এখনই তার জন্য কোনো সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না।
পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি্তে গত বছর একটি বিতর্কিত অর্থ বিলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে পরিণত হয়। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে কেনিয়ার সরকার গত বছরের জুনে সেই কর বিল প্রত্যাহার করে। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ হেফাজতে একজন শিক্ষকের মৃত্যু এবং পুলিশের গুলিতে একজন নিরস্ত্র ফুটপাতের বিক্রেতার মৃত্যুতে ক্ষোভ আবারও তীব্র হয়েছে।
সুলতানা দিনা/