সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদায় আবারও দ্রুজ জাতিগোষ্ঠীর যোদ্ধা ও বেদুইন জাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকে সিরিয়ার সেনা সরে যাওয়ার এক দিন পরে এ ঘটনা ঘটলে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, লড়াই থামাতে ওই অঞ্চলে পুনরায় সেনা নিয়োজিত করা হয়নি। তবে ইসরায়েল এবার চাইছে সিরিয়ার বাহিনী আবারও ওই অঞ্চলে যাক এবং লড়াইয়ের অবসান ঘটাক। অথচ এক দিন আগেই তাদের এ অবস্থান ছিল উল্টো। তারা সিরিয়ার দামেস্কসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। সুয়েইদায় সিরিয়ার বাহিনী যাক, তা তারা চায়নি।
সিরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক লাবিব আল-নাহহাস বলেন, ইসরায়েল স্থানীয় সুরক্ষা বাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য সুয়েইদায় প্রবেশ করতে দিতে সম্মত হয়েছে যাতে বেদুইন ও দ্রুজদের মধ্যে আরও সহিংসতা থামানো সম্ভব হয়। আরও অনেক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে এ লড়াইয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আল-নাহহাস বলেন, সিরিয়ার দামেস্কে ও দক্ষিণের অন্যান্য স্থানে ইসরায়েলি হামলার পর দ্রুজদের মূল ধর্মীয় নেতা শেখ হিকমাত আল-হাজারির মিলিশিয়ারা সুয়েইদার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তারা বেদুইন জাতিগোষ্ঠী ও পরিবারের ওপর সহিংসতা চালানোর মতো বড় অপরাধ করে ফেলেছেন।
তিনি আরও বলেন, জাতিগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যগত অনুশীলন রয়েছে– যা সিরিয়ার সামাজিক কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ– আর তা হলো বেদুইনরা সিরিয়ার দক্ষিণের অংশে অন্যান্য জাতির সহায়তা চেয়ে ফেলেছে। এ কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো দেশ থেকে প্রচুর বাহিনী সেখানে যাচ্ছে আল-হাজারির বাহিনীর সঙ্গে লড়ায়ের জন্য।
আল-নাহহাস বলেন, ফলে এ মুহূর্তে ইসরায়েল যা চেয়েছিল তা হয়নি। উল্টো তাদের মিত্ররা হুমকির মুখে রয়েছে। আর এ কারণেই তারা এটিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে এবং মাঝপথেই পুরোটা থামিয়ে দিতে চাইছে। এ জন্যই নিরাপত্তা বাহিনীকে সেখানে প্রবেশ করাতে চাইছে ইসরায়েল। তবে সামরিক বাহিনী নয়, শুধু নিরাপত্তা বাহিনী চায় তারা– তাও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য, যাতে বেদুইন ও দ্রুজদের সংঘাত থামানো সম্ভব হয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়াইদায় দ্রুজদের জন্য সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রায় ছয় লাখ ডলারের ওই সহায়তা প্যাকেজে খাবার, ওষুধ ও সরঞ্জাম রয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, দ্রুজ জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে ইসরায়েলের যে আগ্রহ তার পেছনে ভূমিকা রাখছে ইসরায়েলি দ্রুজরা। দেশটির সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা রাখছে তারা।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুয়েইদাতে অধিকার লঙ্ঘনজনিত একাধিক অভিযোগ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, সেখানে লড়াইরত সব অংশই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া থেকে শুরু করে হত্যা, অপহরণ, ধ্বংসলীলা, বাড়িঘরে লুটের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে।
দ্রুজ নেতা শেখ হিকমাত আল-হিজরি এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি জাতিগত বিভক্তি তৈরি করেননি। অথচ এর আগে তিনি দ্রুজ যোদ্ধাদের সুয়েইদায় সরকারি বাহিনীর মোকাবিলা করতে বলেছিলেন। সূত্র: আল-জাজিরা