ইউক্রেনের বন্দর শহর ওদেসায় শনিবার (১৯ জুলাই) প্রথমভাগে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় অন্তত একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের চেষ্টা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ দিনের সময় দিয়েছে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতির জন্য। আর না হয় তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে বলে হুমকি দিয়েছে।
তবে রাশিয়া সেসব হুমকি আমলে নিচ্ছে না। কয়েক দিন আগে মস্কো ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, পুতিন মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় তেমন কিছু হবে না তাদের। কারণ রাশিয়া এরই মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পার করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনেও আবার অস্ত্র পাঠাতে শুরু করেছে। তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে সুরক্ষার জন্য।
প্রথমে ইউক্রেনকে তা দেওয়া থামিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে রুশ হামলার মুখে বাধ্য হয়ে তাদের তা পাঠাতে হয়। সে সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন ব্যাপক হামলার মুখে পড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ওদেসায় আক্রমণে ছয়জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। টেলিগ্রামে এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ৩০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩০০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির ১০টি অঞ্চলকে আক্রান্ত করেছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩০টি ড্রোন ১২টি অবস্থানে আঘাত হেনেছে এবং সাতটি অবস্থানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে, দুই পক্ষই যুদ্ধে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, উত্তরপূর্বের সুমি অঞ্চলে সর্বশেষ ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স