সৌদি আরবের রিয়াদে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৭ মাস বয়সী যমজ শিশু ইয়ারা ও লারাকে সফলভাবে আলাদা করেছেন চিকিৎসকরা।
গত ১৭ জুলাই সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ স্পেশালিস্ট চিলড্রেন’স হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।
ইয়ারা ও লারা কোমরের নিচের অংশে সংযুক্ত ছিল। তাদের হাত-পা ছিল আলাদা, তবে নিম্নাংশের কিছু অভ্যন্তরীণ অঙ্গ– যেমন রেক্টাম ও মূত্রথলি একসঙ্গে যুক্ত ছিল।
শিশুদের বাবা মুয়াইদ আল-শেহরি এই মুহূর্তকে পরিবারের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন জানতে পারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওদের আলাদা করা সম্ভব, তখন একটুও দ্বিধা করিনি। এখন যে আনন্দ অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
এ জটিল অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন সৌদি রাজপ্রাসাদের উপদেষ্টা ও মানবিক সহায়তা সংস্থা KSrelief-এর প্রধান ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়া।
তিনি জানান, ‘এ অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল খুব সংকুচিত একটি স্থানে কাজ করা, যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ একসঙ্গে যুক্ত ছিল। এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল একটি প্রক্রিয়া।’
জটিল এই অস্ত্রোপচারে অংশ নিয়েছিলেন মোট ৩৮ জন সদস্যের একটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম, যার মধ্যে ছিলেন পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ, নার্স এবং টেকনিশিয়ান।
অস্ত্রোপচারের পরপরই যমজ শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয় এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে স্বাভাবিক চলাফেরায় ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক সহায়তাকারী দোরা আলসাদুন বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে শিশুদের পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পরিবারকে ভয় ও দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করি, যেন তারা এই কঠিন সময়টায় সাহস রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর শুধু শারীরিক পুনর্বাসন নয়, শিশুদের মানসিক দিক থেকেও সাহায্য প্রয়োজন হয়। তাদের নতুন শরীর, নতুন বাস্তবতা- সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় ও সহানুভূতি দরকার।’
এই সফল অস্ত্রোপচার সৌদি আরবের কনজয়েন্ট টুইন প্রোগ্রামের ৬৫তম সাফল্য। এটি সৌদি ভিশন ২০৩০- এর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে চিকিৎসা সেবা শুধু উন্নতই নয়, বরং বিশ্বমানের হয়ে উঠেছে। সূত্র: আরব নিউজ
মেহেদী/