নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের পূর্ব দিকে অবস্থিত মনটকের একটি এক্সক্লুসিভ মেরিনায় নোঙর করা বিলাসবহুল ইয়টে ফ্যাশন উদ্যোক্তা মার্থা নোলানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩৩ বছর বয়সী এই আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী ফ্যাশন উদ্যোক্তার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ভোরে মনটকেরই সেই এক্সক্লুসিভ মেরিনায় নোঙর করা বিলাসবহুল ইয়টের ভেতর থেকেই কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। তবে চূড়ান্ত কারণ জানতে টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মাদক-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, শহরের একঘেয়েমি এড়াতে ধনী তরুণ-তরুণীরা সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মনটকে ভিড় জমাচ্ছেন। ইয়ট (প্রমোদতরি), রাতের জীবন আর ইনস্টাগ্রাম-নির্ভর লাইফস্টাইল এলাকাটিকে নিউইয়র্কের অভিজাতদের হাঁপ ছেড়ে বাঁচার জায়গায় পরিণত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিড় এবং জমজমাট রাতের জীবন এলাকাটির পুরোনো চেহারা দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
এ কারণে মনটকে ধনী পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফ্লোরিডা বা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ থেকেও এখানে প্রচুর পর্যটক আসেন । আবার অনেকে জনপ্রিয় ইয়ট সার্কিটের অংশ হিসেবে নিউপোর্ট, মার্থাস ভিনইয়ার্ড ও ন্যানটাকেট ঘুরে আসেন। রাত নামতেই এসব ইয়টে জমে ওঠে ভাসমান পার্টি; ভোর পর্যন্ত চলে নাচ-গানের উৎসব।
মনটকে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সাবেক সিনিয়র এজেন্ট মাইকেল ব্রাউন সতর্ক করে বলেন, ‘টাকা, পার্টি আর তারুণ্য—এই তিনের মিশ্রণ মাদক বিক্রেতাদের জন্য উর্বর জায়গা। আজকাল ফেন্টানিল মিশিয়ে মাদক সরবরাহের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে।’
তার মতে, ধনী তরুণেরাই মাদক বিক্রেতাদের সহজ টার্গেট। অনেক সময় তারা জানেই না, তাদের কেনা মাদকে প্রাণঘাতী উপাদান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, ২০২৪ সালে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫০০ মানুষ মাদক ওভারডোজে মারা গেছে। যদিও ২০২২ সালের ১ লাখ ১১ হাজার মৃত্যুর তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম ছিল।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যবসায়ী মনটকের পরিবর্তনে হতাশা প্রকাশ করে জানান, আগে এখানে সবাই একে অপরকে চিনত। গ্রীষ্মে আয়ারল্যান্ড থেকে তরুণেরা আসতেন মৌসুমি কাজ করতে এসে চমৎকার কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরে যেত। আগে মনটক ছিল একটা ছোট মাছধরা গ্রাম, যেখানে টুকটাক পানীয়ের অভ্যাস সবারই ছিল, কিন্তু এখন এটি পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
তবে মার্থা নোলানের মৃত্যুর ঘটনায়ও মনটকের উন্মাদনায় ভরপুর এইসব দিন-রাত পুরোপুরি থেমে যায়নি। ঘটনার পরের দিনও ইয়ট ক্লাবের রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ওয়াইন উৎসবে ধনী অতিথির ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
সুলতানা দিনা/