হামাসের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি এবং এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের তোড়জোড়ের মধ্যেই গাজা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আরও প্রায় ৬০ হাজার সংরক্ষিত সেনা ডেকে পাঠিয়েছে তারা। অবরুদ্ধ উপত্যকায় হামলা ও প্রাণহানিও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৫৬ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বুধবার (২০ আগস্ট) নতুন করে ৬০ হাজার সংরক্ষিত সেনা ডেকে পাঠানোর খবরটি জানায়। পুরো বিষয়টিই করা হচ্ছে গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা হিসেবে। আগেই ২০ হাজার সংরক্ষিত সেনা যুদ্ধে নিয়োজিত করেছিল তারা। এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে।
গাজা সিটির দখল নিয়ে গভীর আলোচনার পর ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে একমত হয়েছেন। সেটির প্রেক্ষিতেই সেনা ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অভিযান শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ওই এলাকাটি গাজা সিটির কাছেই অবস্থিত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সেখানে শত শত আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।
এদিকে গাজায় হামাসের সঙ্গেও প্রবল লড়াই হচ্ছে ইসরায়েলের। উপত্যকাটির খান ইউনিসে হামাস কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করার খবর নিশ্চিত করেছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডস জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা খান ইউনিসে হালকা অস্ত্র ও গ্রেনেড ব্যবহার করে ইসরায়েলি বেশ কয়েকজন সেনাকে নির্মূল করেছে। ঠিক কতজন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি হামাস।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ গাজায় এক সেনার গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কফির ব্রিগেডের ৯০তম ব্যাটালিয়নের এক সেনা দক্ষিণ গাজায় লড়াইয়ের সময় গুরুতর আহত হয়েছে। ওই সেনাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকেও অবহিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, খান ইউনিসে ১০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে তারা হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। ওই যোদ্ধাদের খান ইউনিসে সম্মুখ লড়াইয়ে হত্যার কথা বলছে তারা। বিবৃতিতে তারা দাবি করে, মেশিনগান ও অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্র নিয়ে ১৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধা আক্রমণ চালায়। পরে ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
হামাস এরই মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে মধ্যস্থতাকারীরা। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের হাতে থাকা ৫০ জিম্মির সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।
কাতার ও মিসরের সামনে নিয়ে আসা প্রস্তাবটিতে হামাসের হাতে থাকা অর্ধেক জিম্মির মুক্তির কথা বলা হয়েছে। কাতার বলছে, এই এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এক প্রস্তাবের সঙ্গে তাদের চুক্তিটির প্রায় হুবহু মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সে প্রস্তাবে ইসরায়েল এর আগে সম্মতি দিয়েছিল।
ইসরায়েল এখনো চুক্তি বাতিল করে দেয়নি। তবে ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসের বিবিসিকে বলেছেন, তারা আংশিক কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নন। মেনসের বলেন, পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। প্রধানমন্ত্রী গাজার ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিকল্পনা সামনে নিয়ে এসেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে আরও অন্তত ৫৬ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন সহায়তাপ্রত্যাশী ছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ১৮৫ জন। এ ছাড়া আগের হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে অনাহারে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯-এ। মৃতদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬২ হাজার ১২২ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৮ জন। ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ১৮ জন, আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৪৭ জন। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা