দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই দুটি নতুন ধরনের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে গত শনিবার ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।
‘অনন্য প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে ‘উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন’ ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ক্রুজ মিসাইল, ড্রোনসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম বলেও উল্লেখ করেছে কেসিএনএ। তবে এর বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সংবাদ সংস্থাটি।
এই পরীক্ষা এমন এক সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া নিশ্চিত করেছে যে, গত মঙ্গলবার দেশটির সেনারা উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। ওই সৈন্যরা সাময়িকভাবে দুদেশের মধ্যে বিভাজক নিরস্ত্রীকরণ অতিক্রম করেছিল।
জাতিসংঘ কমান্ড জানায়, ‘প্রায় ৩০ জন উত্তর কোরিয়ান সেনা ওই কড়া সুরক্ষিত সীমান্ত অতিক্রম করেছিল বলে ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। এর জবাবে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করেছে, এটি সিউলের একটি ইচ্ছাকৃত উসকানি’।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কিম যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে ‘সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ ও সংঘাতমূলক’ বলে নিন্দা জানান এবং দ্রুততার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেন।
গত জানুয়ারিতে পিয়ংইয়ং দাবি করে, তারা একটি নতুন মধ্য-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে, যা হাইপারসনিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় যেকোনো অঞ্চলে হামলা করতে সক্ষম।
তবে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন সমর্থনে সেনা পাঠানোর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিন উনশিক গত বছর জানিয়েছিলেন, সিউল তথ্য পেয়েছে যে, মস্কো পিয়ংইয়ংয়ের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর একটি উত্তর কোরিয়া, যেখানে কিম পরিবার কয়েক দশক ধরে দেশ শাসন করছে। কোরীয় যুদ্ধ ১৯৫৩ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে রয়েছে, যদিও বহু বছর ধরে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে গোলাবর্ষণ করেনি। সূত্র: বিবিসি