ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

গাজা সিটির ৪০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে, সরে যেতে নারাজ বাসিন্দারা

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
গাজা সিটির ৪০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে, সরে যেতে নারাজ বাসিন্দারা
মানচিত্রে গাজার দখলকৃত অংশকে লাল রং এ চিহ্নিত করা হয়েছে। গাজার চতুর্পাশে দখলদারির ফলে গাজার উত্তরের গাজা সিটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তারা এখন গাজা সিটির ৪০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যেই তীব্র বোমাবর্ষণে আরও ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন, যদিও হাজারো বাসিন্দা ইসরায়েলের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে ধ্বংসস্তূপে রয়ে গেছেন, যেখানে ইসরায়েলের নতুন অগ্রযাত্রা চলছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, বেশিরভাগই গাজা সিটিতে। ইসরায়েলি বাহিনী শহরের বাইরের উপশহরগুলো দখল করে এখন কেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন বলেন, “আমরা হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করে চলেছি। আজ আমরা গাজা সিটির ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছি।” তিনি জেইতুন ও শেখ রাদওয়ান এলাকাগুলোর নাম উল্লেখ করেন। “আগামী দিনে এ অভিযান আরও বিস্তৃত ও তীব্র হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা হামাসকে সর্বত্র খুঁজে বের করব। এ মিশন শেষ হবে কেবল তখনই, যখন ইসরায়েলের অবশিষ্ট সব জিম্মি ফিরে আসবে এবং হামাসের শাসন শেষ হবে।”

ডেফ্রিন নিশ্চিত করেন, সেনাবাহিনীর প্রধান এয়াল জামির মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা ছাড়া হলে গাজায় সামরিক শাসন জারি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী মন্ত্রীরা গাজায় সামরিক শাসন আরোপ ও বসতি স্থাপনের পক্ষে চাপ দিলেও নেতানিয়াহু এ প্রস্তাব এখনো নাকচ করেছেন।

গত ১০ আগস্ট ইসরায়েল গাজা সিটিতে অভিযান শুরু করে। নেতানিয়াহু বলেছেন, এর লক্ষ্য হলো হামাসকে পরাজিত করা, বিশেষ করে সেই এলাকায় যেখানে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী সবচেয়ে তীব্র লড়াই করেছে।

এই অভিযানের কারণে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা কুড়িয়েছে। এমনকি ইসরায়েলের ভেতরেও এ নিয়ে অস্বাভাবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেনা কমান্ডার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কৌশলগত টানাপোড়েনের খবরও শোনা যাচ্ছে।

গাজা সিটির পাঁচ সন্তানের মা উম নাদের বলেন, “এইবার আমি আমার বাড়ি ছাড়ব না। এখানেই মরব। আমরা বের হই বা থাকি—কোনো পার্থক্য নেই। যারা ঘর ছেড়েছিল, তাদের অনেকেই ইসরায়েলের হাতে নিহত হয়েছে। তাহলে যাব কেন?”

বাসিন্দারা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী জেইতুন, সাবরা, তুফাহ ও শেজাইয়া এলাকায় স্থল ও আকাশ থেকে হামলা চালিয়েছে। ট্যাংক ঢুকে গেছে শেখ রাদওয়ান এলাকার পূর্বাংশে, যেখানে বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং তাবুতে আগুন লেগেছে।

তুফাহ এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণে পাঁচটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকরা জানান, এতে অন্তত আটজন নিহত ও ডজনাধিক আহত হয়েছেন।

গাজার সিভিল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তুফাহর মাশাহরা এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি সমাবেশ ও কয়েকটি বাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আগুনে চারটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনী সতর্কবার্তা দিলেও মানুষের যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। বিকল্প জায়গা একেবারেই নেই।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তবে তাদের দাবি, তারা শহরের উপকণ্ঠে অভিযান চালাচ্ছে হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংস ও অস্ত্র খুঁজে বের করার জন্য।

২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোতেই গাজা সিটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একসময় এখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করত। পরে ইসরায়েল অন্যান্য এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে দেওয়ায় কয়েক লাখ বাসিন্দা আবারো ধ্বংসস্তূপে ফিরেছেন।

ইসরায়েল এখন আবারো গাজা সিটির মানুষকে নিরাপত্তার জন্য সরে যেতে বলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭০ হাজার মানুষ দক্ষিণে চলে গেছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর অর্ধেকেরও কম এবং এখনও হাজারো মানুষ ইসরায়েলের অগ্রযাত্রার পথে আটকে আছেন।

‘সবচেয়ে বিপজ্জনক বাস্তুচ্যুতি’

ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ আল-শাওয়া বলেন, এ বাস্তুচ্যুতি সবচেয়ে দুর্বল মানুষদের জন্য ভয়াবহ হবে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য। “এটি হবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বিপজ্জনক বাস্তুচ্যুতি,” তিনি বলেন। “মানুষ বোমাবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও সরতে রাজি নয়, কারণ তারা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।”

ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, গাজার কোথাও নিরাপদ নয়, এমনকি ইসরায়েল যে এলাকাকে মানবিক জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেখানেও নয়।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র খাদ্যসংকটে গত কয়েক সপ্তাহে ৩৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১৩১ জন শিশু। ইসরায়েল বলছে, তারা গাজায় মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সাহায্য বৃদ্ধি করছে।

যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের নেতৃত্বে সশস্ত্র যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়, এতে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে ৬৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী। এ যুদ্ধে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

অবশিষ্ট ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটর—ক্রিস ভ্যান হোলেন ও জেফ মার্কলি—গাজা ও পশ্চিম তীরে এক সপ্তাহব্যাপী পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আলাপ-আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা এই অজানা উপসংহারে পৌঁছেছি যে নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে এবং পশ্চিম তীরে ধীরগতির জাতিগত নির্মূল কার্যক্রমে লিপ্ত।” সূত্র: রয়টার্স

মাহফুজ/

 

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসের লার্নাকায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর ২২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি ছাত্রের।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাংলাদেশি ছাত্রের বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণের পাশাপাশি অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার তরুণকে তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা মরদেহ এবং একটি ছুরি খুঁজে পায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, এই ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ওরোক্লিনির বাড়ি থেকে স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার সময় লার্নাকা থেকে অপহৃত হন। 

এর আগে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া সাহায্যের জন্য তার বাবাকেও বার্তা পাঠান। এর পরই তার মােবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ছাত্রের বাবা কয়েকটি ফোন থেকে কল পান, যেসব কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার পর, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোরে পুনরায় বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ জুন) মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে আসা মোট ৫৯টি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউক্রেনের শহরগুলোতে রুশ হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়, তবে এসব ড্রোন ইউক্রেন থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সোবিয়ানিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আমান/