ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পর সেনা পাঠাতে চায় ইউরোপের দেশগুলো। মূলত দেশটির নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে তারা।
ফ্রান্সের প্যারিসে বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) একত্রিত হন ইউরোপের ২৬টি দেশের নেতা। সেখানে তারা একমত হন এ বিষয়ে। তবে পশ্চিমের এ প্রস্তাব এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইউরোপীয় সেনাদের ওপর হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।
এ রকম সেনারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবেন বলেও উল্লেখ করেছেন পুতিন। বিশেষ করে তারা যদি এখন সেখানে উপস্থিত হয়। বিবিসির খবর বলছে, ইউরোপের কোন কোন দেশ সেনা পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
আপাতত যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত মাসে আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠকের পর কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু তার পরও একাধিকবার ইউক্রেনে বড় মাপের হামলা হয়েছে এবং সেসব হামলায় প্রাণহানিও হয়েছে।
পুতিন গতকাল শুক্রবার জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এটি করার কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। কারণ ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবে একমত হতে পারছে না। প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে রয়েছে। সেগুলো আর ফেরত দিতে চায় না তারা। অন্যদিকে ইউক্রেন সেগুলো ছেড়ে দিতে রাজি নয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ইউক্রেনকে হয়তো শেষ পর্যন্ত ভূখণ্ড ছাড়তেই হবে।
পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উসকানি অব্যাহত রাখছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কিয়েভ জানিয়েছে, যেকোনো বড় চুক্তির আগে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি হতে হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দুই দেশের প্রতিনিধিরা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকেও বসেছিলেন। কিন্তু তারা যুদ্ধবন্দি বিনিময় ছাড়া আর কোনো চুক্তিতে আসতে পারেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে একাধিকার বলেছেন যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আসলে যুদ্ধবিরতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের দাবিদাওয়া অনেক বেশি। তারা বহু কিছু চাইছে।
পশ্চিমা নেতাদের ধারণা, রাশিয়া আসলে যুদ্ধ চালানোর মাধ্যমে কালক্ষেপণ করছে। তারা ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখলে নিতে চাইছে। ৪০ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে সেখানে। পুতিন গত বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সামনে দাবি করেন, ইউক্রেনে সব যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রেখেছে।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুত্তে গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েন বিষয়ে রাশিয়ার আপত্তি করার কোনো সুযোগ নেই। ইউক্রেন একটি সার্বভৌম দেশ। সিদ্ধান্ত তাদেরই নেওয়া উচিত। সূত্র: বিবিসি