রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের শান্তি বিষয়ে আলোচনা করবেন এমন ‘কোনো প্রমাণ নেই’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর প্রধান রিচার্ড মুর। গতকাল শুক্রবার তথ্যটি দেন তিনি।
মুর আরও বলেন, ‘পুতিন সবাইকে ঘুরাচ্ছেন। তিনি নিজের ইচ্ছার আওতায় সবাইকে আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সফল হবেন না। স্পষ্টভাবে বললে, পুতিন যতটা চাবাতে পারবেন, তার চেয়ে বড় অংশে মুখ দিয়ে বসেছেন। তিনি ভেবেছিলেন যে সহজ জয় হবে তাদের। তবে তিনি ও আরও অনেকে ইউক্রেনীয়দের বুঝে উঠতে পারেননি।’
ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছর ধরে চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু মস্কো ও কিয়েভকে কোনো সমঝোতার দিকে আনতে পারেনি। ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ও বৈঠকের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে, কিন্তু মস্কো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বারবারই তারা দাবি করেছে, যুদ্ধের অবসান হলে, তা হতে হবে তাদের শর্তে। মূলত ইউক্রেনের যে ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে রয়েছে, সেটি আর ফেরত দিতে চায় না তারা।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে পুতিনকে নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এদিকে মুর গত পাঁচ বছর ধরে এমআই৬-এর প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষেই তার মেয়াদ ফুরাবে। এর পর সংস্থাটি নিজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধান পাবে। মুর দায়িত্বে থাকাকালেই রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায় এবং সেটির জেরে শুরু হয় প্রতিরোধ। ইউক্রেন যুদ্ধে হাজার হাজার প্রাণহানিও হয়েছে। দুই পাশেই ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখা গেছে।
মুর গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেনের জাতীয় পরিচয় দৃঢ় করেছে এবং দেশটির পশ্চিমের দিকে যাত্রাকে বেগবান করেছে। এর জেরে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মুর বলেন, ‘পুতিন পুরো বিশ্বকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন যে রাশিয়ার বিজয় অবশ্যম্ভাবী। তবে তিনি বিশ্বকে মিথ্যা বলছেন। নিজ জনসাধারণকে মিথ্যা বলছেন। হয়তো তিনি নিজের কাছেও মিথ্যা বলছেন।’
পুতিন নিজের ব্যক্তিগত অভিলাষের স্বার্থে দেশের ভবিষ্যতকে জিম্মি করছেন বলেও মনে করছেন মুর। এর আগে তুরস্কের আঙ্কারায় যুক্তরাজ্যের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুর।
ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশীদারদের দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল এড়াতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন পুতিন। অন্তত সেরকমটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া পুতিনের ধারণা, তিনি বিপুল সংখ্যক সেনার সমাবেশ ঘটিয়ে ইউক্রেনের তুলনামূলক ছোট সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করতে পারবেন।
যুদ্ধে টিকে থাকতে ইউক্রেন অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করছে নিজ দেশীয় অস্ত্র শিল্পের জন্য।
এমআই৬ নতুন ডার্ক ওয়েব পোর্টাল উন্মোচন করেছে। সেটিরই অনুষ্ঠানে কথা বলেন মুর। ইস্তাম্বুলে হওয়া ওই অনুষ্ঠানেই উঠে আসে রাশিয়া বিষয়ে তার মন্তব্যগুলো। সূত্র: এপি