ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে আনল ইরান

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২০ পিএম
আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে আনল ইরান

ইরান তাদের রাষ্ট্রদূতদের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে ‘আলাপ-আলোচনার জন্য’ দেশে ফিরিয়ে এনেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইউরোপের এই তিন দেশ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চালু করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হতে যাচ্ছে।

আজ শনিবার ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাতিল হওয়া প্রস্তাবগুলো পুনর্বহালের যে দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ ইউরোপের তিন দেশ নিয়েছে, তার জবাবেই জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তেহরানে ডাকা হয়েছে।”

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হবে ইরানের ওপর

এই পদক্ষেপ এলো একদিন পর, যখন রাশিয়া ও চীন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে মাত্র চার দেশ তাদের খসড়া প্রস্তাব সমর্থন করে, ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পথ খুলে যায়।

ইউরোপের এই তিন দেশ (E3) এক মাস আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ তুলে “স্ন্যাপব্যাক” প্রক্রিয়া চালু করে। তাদের দাবি, ইরান তার পারমাণু কর্মসূচি স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করছে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলার পর নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে।

ইরান বলছে, জুনে ১২ দিনের সংঘাতে এসব হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবি প্রত্যা্খ্যান করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল রবিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক, সামরিক, ব্যাংকিং ও শিপিং খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা নিষিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যেই তেহরানের খোলাবাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়াল ধসে পড়েছে—প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর দর নেমে গেছে ১১ লাখেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, এ সপ্তাহে তারা ইরানের কিছু স্থাপনায় পরিদর্শন পুনরায় শুরু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা জানায়নি। মস্কোয় ওয়ার্ল্ড অ্যাটমিক উইক সম্মেলনে ইরানের পারমাণু বিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি আবারও অভিযোগ করেন, সংস্থাটি ইরানের স্থাপনায় হওয়া বিমান হামলার নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত কয়েক দিনে ইরান স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া স্থগিতের দুটি প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে পশ্চিমা শক্তিগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আলোচনা সত্ত্বেও তারা কোনো অগ্রগতি দেখতে পায়নি।

ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাপের মাধ্যমে দেশটির ইসলামী শাসনব্যবস্থা উচ্ছেদ করতে চাইছে, তাই আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। 

তিনি বলেন, “যদি আসল লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দূর করা হতো, তা সহজেই করা যেত।” তিনি আবারও নিশ্চিত করেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষতি করতে চায় না, বরং আরও আলোচনায় রাজি আছে। তবে তার ভাষায়, “এ মুহূর্তে স্ন্যাপব্যাকই সঠিক ওষুধ।”

নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তবে সব দেশ তা কার্যকর করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি শুক্রবার বলেন, মস্কোর দৃষ্টিতে এই নিষেধাজ্ঞা “অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য”।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো (E3) আগেই একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বিশ্বব্যাপী দেশগুলোকে ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে। যদিও চীনের অনেক কোম্পানি এ চাপ অমান্য করেছে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফায় “সর্বোচ্চ চাপ” নীতি চালু করেন, যখন তিনি বারাক ওবামার আমলে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। ওই চুক্তির আওতায় ইরান ব্যাপকভাবে কর্মসূচি সীমিত করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ পেত।

নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যত সেই চুক্তিতে স্থগিত থাকা জাতিসংঘের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করছে।
গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে দেরি না করার আহ্বান জানান এবং ইঙ্গিত দেন যে ইসরায়েল প্রয়োজনে আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলা চালাতে প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অবশ্য বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) থেকে বেরিয়ে যাবে না। তার ভাষায়, “কিছু শক্তি কৃত্রিম অজুহাত খুঁজে অঞ্চলকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে চাইছে।”

শনিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি “বিস্তারবাদ” ঠেকাতে একমাত্র উপায় “সক্রিয় ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিরোধ।” তারা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “অশুভ পরিকল্পনা” ব্যর্থ হয়েছে।

শনিবারই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি বৈরুতে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ, সিনিয়র আইআরজিসি কমান্ডার আব্বাস নিলফোরুশানসহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি বলেন, এখন সব দেশই বুঝতে পারছে, ইসরায়েল “কোনো দেশকেই রেহাই দেয় না।”

এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চারজনকে ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও নিষিদ্ধঘোষিত মুজাহিদিন-ই-খালক (এমইকে) গোষ্ঠীর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় তিনতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছেে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ওই ভবনটিতে একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টার, পোষা প্রাণীর দোকান এবং একটি লাইব্রেরি ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অ্যানিমেশন সেন্টারের ক্লাস চলছিল। হঠাৎ আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরেই আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া নিচতলায় থাকা পোষা প্রাণীর দোকানে আগুনে পুড়ে চারটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে- ভবনের এসি ডাক্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে ভবনের তিন মালিক- রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে রাজ্য সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড়ে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে লখনউয়ে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৩টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

খাদিজা রুমি/অমিয়/

কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-এর এই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০২৬ সালের ৬ মার্চের কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা দেখা যাচ্ছে

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত  এবং ৬৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক এবং বাকি একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ ও দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কাতার এনার্জির 'বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই' কারখানায় কাজ শুরু করার সময় একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাস কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কাতার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র: দা হিন্দু

তামান্না রুপা/

ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

সংঘাত নিরসনে আলোচনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (২২ জুন) ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মওকুফের একটি আদেশ জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির পথ প্রশস্ত করেছে। 

এ মওকুফটি ছিল ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি শর্ত।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এমওইউ-এর বেশ কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‌‌‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও উন্মুক্ত ট্রানজিট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে, ট্রেজারি একটি অস্থায়ী ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়।’

এই লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বা পেট্রোলিয়াম পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানির অনুমতি দেয়, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়া বা কিউবা, অথবা রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনের সঙ্গে লেনদেনের অনুমোদন দেয় না।

তবে এ ছাড়ের খবরের পর তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৭৭ দশমি ৭ ডলারে নেমে আসে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তৃণমূলের একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। 

অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকেই তৃণমূলের নতুন ৩০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী নেতারা দলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৩ বছর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (কর্মসমিতি) বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে তৃণমূলের কোনো জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়নি। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আগের জাতীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয় এবং তা পাস করা হয়। এরপর ঋতব্রতদের নেতৃত্বাধীন ‘তৃণমূল’ নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। 

নতুন কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এ ছাড়া তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকেও সহসভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন। নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,  সোমবার বিদ্রোহীদের এই বৈঠকের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না। সেখানে শুধু মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি রাখা হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর থেকেই মূলত তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকারের কোন্দলে রূপ নেয়। একে একে দলের বিধায়করা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করতে শুরু করেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট