পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি আছেন বলে জানা গিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র, টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।
এর দু’দিন আগে, অর্থাৎ গত বুধবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন টিটিপির আরো ১৩ জন সদস্য।
সেই অভিযানেও আরও দুই থেকে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তারা ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার অজুহাত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন এরপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ।
গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাকের দর্শখেলের শাহ সেলিম থানার কাছে অভিযান চালায় পাক সেনারা। ওই সময় ১৭ জন নিহত হন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার( ২৬ সেপ্টেম্বর) এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া, অভিযানে ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের সীমান্তঘেষা খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাকিস্তানের তালেবানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)বেশ প্রভাবশালী। সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার মাধ্যমে সেখানে বিদেশিদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী গত শনিবার পাক সেনাবাহিনী জানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (টিটিপি) ১৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে তারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কারাক বিভাগে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এখন জানা গেলো ওই ১৭ জনের মধ্যে এক বাংলাদেশিও আছেন।
নিরাপত্তাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জানতে পারেন দুর্গম ওই অঞ্চলে মোল্লা নাজির গ্রুপের সদস্যরা রয়েছেন। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইউনিট, স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি) এবং কাউন্টার টেররিজম বিভাগের (সিটিডি) সদস্যরা সেখানে যৌথ অভিযান চালান।
সুলতানা দিনা/