তিব্বতে মাউন্ট এভারেস্টের ১৬ হাজার ফুট উচ্চাতায় তীব্র তুষারঝড়ে আটকা পড়েছেন অন্তত এক হাজার মানুষ। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এই তুষারঝড় শুরু হয়।
সোমবার (৬ অক্টোবর) চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩৫০ জন পর্বতারোহীকে উদ্ধার করে তিব্বতের কুদাং শহরে আনা হয়েছে।বাকিদের উদ্ধারে অভিযান এখনও চলছে।
জানা গেছে, ৩ অক্টোবর হিমালয় পর্বতমালায় তীব্র তুষার ঝড় আঘাত হানে, যার ফলে প্রবল তুষারপাত এবং বৃষ্টিপাত হয়। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা দেয় এভারেস্টের পূর্ব দিকে, চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কারমা উপত্যকায়, যেখানে গড় উচ্চতা ৪,২০০ মিটারেরও বেশি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভারেস্টের তিব্বত অংশের পূর্ব ঢালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মিটার (১৬ হাজার ফুট) উচ্চতায় আটকে পড়েন পর্যটকেরা। ওই এলাকার প্রবেশপথ থেকে তুষার সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। তাদের সহায়তা করছেন শত শত স্থানীয় বাসিন্দা।
তিব্বতে এভারেস্টের পূর্ব দিকের ওই ঢাল পর্বতারোহীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে ভারী তুষারপাত শুরু হয় এবং ক্রমেই তা বাড়তে থাকে।
তীব্র শীতের কারণে হাইপোথারমিয়ার (শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া) ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া, এ বছরের আবহাওয়া স্বাভাবিক নয়। এর আগে কখনো অক্টোবর মাসে এমন আবহাওয়া দেখা যায়নি। হঠাৎই এমনটা ঘটেছে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, তিব্বতের উদ্ধারকারী দল ‘ব্লু স্কাই রেসকিউ’-এর কাছে সাহায্য চেয়ে একটি ফোন আসে। তাদের বলা হয়, প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে ক্যাম্পের তাঁবুগুলো ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকজন পর্বতারোহী এর মধ্যেই হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় টিংরি কাউন্টি পর্যটন প্রতিষ্ঠান গত শনিবার রাত থেকে এভারেস্টে ভ্রমণের টিকিট বিক্রি এবং দর্শনীয় এলাকায় প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ অঞ্চলে এখন আবহাওয়া চরম। নেপালে ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট ভূমিধস এবং হঠাৎ বন্যায় ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। চীনে টাইফুন ম্যাটমোর কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মাউন্ট এভারেস্ট বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৯ মিটারের বেশি। প্রতিবছর বহু মানুষ শৃঙ্গে ওঠার চেষ্টা করেন, তবে এটি বিপজ্জনক।
সুলতানা দিনা/