ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

আফগানিস্তানে পরাজয়ের কারণ জানালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৯ পিএম
আফগানিস্তানে পরাজয়ের কারণ জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন নৌবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প

ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারের কারণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জয়ের জন্য লড়তাম, তাহলে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে সহজেই জয়ী হতে পারতাম। কিন্তু আমরা তখন ‘রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ’ (politically correct) হতে চেয়েছিলাম, তাই এই যুদ্ধকে সহজভাবে নিয়েছিলাম।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু এখন আমরা আর রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ হওয়ার ভান করছি না — তাই এখন আমরা জয়লাভ করি।”

আফগানিস্তান থেকে পূর্বে ছেড়ে আসা মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘বাগরাম’ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখতে গিয়ে আফগানিস্তান বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প এবং এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নেভাল স্টেশন নরফোক-এ মার্কিন নৌবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘‘অতীতের আমেরিকান যুদ্ধগুলো ক্ষমতার অভাবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র যখন জেতার জন্য লড়াই করা থামিয়ে দিয়েছে, তখনই সেগুলো হেরেছে।’’

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির গৌরব প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সাবমেরিন শক্তির দিক থেকে আমরা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ২৫ বছর এগিয়ে। কেউ আমাদের ধারে কাছেও নেই। আমাদের সঙ্গে কারো তুলনাও হয় না।’’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন তিনি কাবুলের উত্তরে অবস্থিত বাগরাম এয়ার বেস-এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানাচ্ছেন। ২০২১ সালের প্রত্যাহারের আগে এটি ছিল আফগানিস্তানে তাদের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনা।

গত মাসে তিনি প্রথমে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং তারপর থেকে বেশ কয়েকবার এই দাবি পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন যে যদি ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘‘ফেরত’’ দেওয়া না হয়, তবে আফগানিস্তানকে ‘‘গুরুতর পরিণতি’’র মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন যে বাগরামের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি “চীনের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন এলাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে” অবস্থিত।

তবে তালেবান সরকার ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ‘‘বাগরাম আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের অংশ এবং কখনোই হস্তান্তর করা হবে না।’’

মুজাহিদ বলেন, ‘‘আফগানরা দখলদারত্ব নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তারা কখনোই তাদের ভূমিকে আবার বিদেশিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে দেবে না। ২০ বছরের দখলদারত্বের সময়, আফগানিস্তান প্রতিদিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।’’

ট্রাম্পের বারবার বাগরামের দিকে নজর দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার দিকে ফিরে যাচ্ছেন—যাকে তিনি ‘‘আমেরিকান ইতিহাসের বৃহত্তম অপমান’’ বলে অভিহিত করেছেন—যদিও তার প্রশাসন নতুন পররাষ্ট্র নীতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। 

মাহফুজ/

ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় তিনতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছেে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ওই ভবনটিতে একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টার, পোষা প্রাণীর দোকান এবং একটি লাইব্রেরি ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অ্যানিমেশন সেন্টারের ক্লাস চলছিল। হঠাৎ আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরেই আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া নিচতলায় থাকা পোষা প্রাণীর দোকানে আগুনে পুড়ে চারটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে- ভবনের এসি ডাক্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে ভবনের তিন মালিক- রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে রাজ্য সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড়ে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে লখনউয়ে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৩টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

খাদিজা রুমি/অমিয়/

কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-এর এই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০২৬ সালের ৬ মার্চের কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা দেখা যাচ্ছে

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত  এবং ৬৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক এবং বাকি একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ ও দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কাতার এনার্জির 'বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই' কারখানায় কাজ শুরু করার সময় একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাস কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কাতার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র: দা হিন্দু

তামান্না রুপা/

ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

সংঘাত নিরসনে আলোচনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (২২ জুন) ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মওকুফের একটি আদেশ জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির পথ প্রশস্ত করেছে। 

এ মওকুফটি ছিল ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি শর্ত।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এমওইউ-এর বেশ কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‌‌‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও উন্মুক্ত ট্রানজিট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে, ট্রেজারি একটি অস্থায়ী ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়।’

এই লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বা পেট্রোলিয়াম পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানির অনুমতি দেয়, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়া বা কিউবা, অথবা রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনের সঙ্গে লেনদেনের অনুমোদন দেয় না।

তবে এ ছাড়ের খবরের পর তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৭৭ দশমি ৭ ডলারে নেমে আসে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তৃণমূলের একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। 

অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকেই তৃণমূলের নতুন ৩০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী নেতারা দলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৩ বছর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (কর্মসমিতি) বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে তৃণমূলের কোনো জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়নি। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আগের জাতীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয় এবং তা পাস করা হয়। এরপর ঋতব্রতদের নেতৃত্বাধীন ‘তৃণমূল’ নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। 

নতুন কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এ ছাড়া তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকেও সহসভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন। নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,  সোমবার বিদ্রোহীদের এই বৈঠকের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না। সেখানে শুধু মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি রাখা হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর থেকেই মূলত তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকারের কোন্দলে রূপ নেয়। একে একে দলের বিধায়করা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করতে শুরু করেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট