ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারের কারণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জয়ের জন্য লড়তাম, তাহলে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে সহজেই জয়ী হতে পারতাম। কিন্তু আমরা তখন ‘রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ’ (politically correct) হতে চেয়েছিলাম, তাই এই যুদ্ধকে সহজভাবে নিয়েছিলাম।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু এখন আমরা আর রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ হওয়ার ভান করছি না — তাই এখন আমরা জয়লাভ করি।”
আফগানিস্তান থেকে পূর্বে ছেড়ে আসা মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘বাগরাম’ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখতে গিয়ে আফগানিস্তান বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প এবং এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নেভাল স্টেশন নরফোক-এ মার্কিন নৌবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘‘অতীতের আমেরিকান যুদ্ধগুলো ক্ষমতার অভাবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র যখন জেতার জন্য লড়াই করা থামিয়ে দিয়েছে, তখনই সেগুলো হেরেছে।’’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির গৌরব প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সাবমেরিন শক্তির দিক থেকে আমরা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ২৫ বছর এগিয়ে। কেউ আমাদের ধারে কাছেও নেই। আমাদের সঙ্গে কারো তুলনাও হয় না।’’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন তিনি কাবুলের উত্তরে অবস্থিত বাগরাম এয়ার বেস-এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানাচ্ছেন। ২০২১ সালের প্রত্যাহারের আগে এটি ছিল আফগানিস্তানে তাদের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনা।
গত মাসে তিনি প্রথমে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং তারপর থেকে বেশ কয়েকবার এই দাবি পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন যে যদি ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘‘ফেরত’’ দেওয়া না হয়, তবে আফগানিস্তানকে ‘‘গুরুতর পরিণতি’’র মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন যে বাগরামের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি “চীনের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন এলাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে” অবস্থিত।
তবে তালেবান সরকার ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ‘‘বাগরাম আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের অংশ এবং কখনোই হস্তান্তর করা হবে না।’’
মুজাহিদ বলেন, ‘‘আফগানরা দখলদারত্ব নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তারা কখনোই তাদের ভূমিকে আবার বিদেশিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে দেবে না। ২০ বছরের দখলদারত্বের সময়, আফগানিস্তান প্রতিদিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।’’
ট্রাম্পের বারবার বাগরামের দিকে নজর দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার দিকে ফিরে যাচ্ছেন—যাকে তিনি ‘‘আমেরিকান ইতিহাসের বৃহত্তম অপমান’’ বলে অভিহিত করেছেন—যদিও তার প্রশাসন নতুন পররাষ্ট্র নীতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
মাহফুজ/