এবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশা পূরণ হলো না। স্বপ্নভঙ্গ হলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে এসে একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর প্রথম আমল ও বর্তমান আমল মিলিয়ে তিনি অন্তত ‘সাতটি’ সংঘাত থামিয়েছেন। তবে তাঁর নোবেল পাওয়ার আশা ভেঙে খানখান করে এবারে শান্তিতে নোবেল জিতেছেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি পাওয়ার জন্য যেভাবে দৌড়ঝাঁপ চালিয়েছেন, সেভাবে ইতিহাসে আর কোনো প্রার্থী প্রচারণা বা লবিং করেননি। ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে বলেছেন, যদি তাঁকে নোবেল না দেওয়া হয়, তবে সেটি হবে ‘একটি বড় অপমান’।
অবশ্যই এরআগে সুইডেনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার ভ্যালেনস্টিন এএফপিকে বলেন, এ বছর ট্রাম্প নোবেল পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, পরের বছর হয়তো তিনি পাবেন। তাঁর নানা উদ্যোগ, বিশেষ করে গাজা সংকট নিয়ে পদক্ষেপের বিষয়ে ধোঁয়াশা কেটে যাবে।
ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত না করায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে নোবেল কমিটির সমালোচনা করেছেন।
চেউং এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘(প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের) মানবিক হৃদয় রয়েছে। তাঁর মতো আর কেউ কখনো আসবেন না, যিনি শুধু তাঁর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে পাহাড়ও টলিয়ে দিতে পারেন।’
চেউং আরও লিখেছেন, ‘নোবেল কমিটি প্রমাণ করেছে, তারা শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।’
ট্রাম্পকে নিয়ে নোবেল কমিটির বক্তব্য
শান্তি পুরস্কার জয় নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্তি করার বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োর্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেন, তাঁরা শুধু ‘আলফ্রেড নোবেলের কাজ ও ইচ্ছার’ ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
ফ্রিডনেস আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর হাজার হাজার চিঠি পাই, যেখানে মানুষ বলতে চান—কোনটি তাঁদের জন্য শান্তির পথ তৈরি করে। এই কমিটি এমন একটি ঘরে বসে, যা সব পুরস্কার বিজয়ীদের প্রতিকৃতিতে পূর্ণ এবং সেই ঘরটি সাহস ও সততায় পরিপূর্ণ।’
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সুতরাং, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত শুধু আলফ্রেড নোবেলের কাজ এবং ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করেই নিই।’
এসএন/