মাদাগাস্কারের সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনাকে অভিশংসনের পক্ষে পার্লামেন্ট ভোট দেওয়ার পরপরই এই ঘোষণা দেন সেনা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা। অভিশংসনের পরপরই দেশ ছাড়েন রাজোয়েলিনা।
রাজধানী আন্তানানারিভোতে এ ঘোষণার পরপরই রাস্তায় উৎসব শুরু হয়। স্থানীয়রা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং সেনা নিয়ন্ত্রণকে স্বাগত জানান।
কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বলেন, “আমরা ক্ষমতা নিয়েছি। সেনাবাহিনী দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করছে, তবে নিম্নকক্ষ (পার্লামেন্টের নিম্নসভা) বহাল থাকবে।” তিনি আরও জানান, সামরিক নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে, যা সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবে। এ সময় নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণভোট হবে এবং পরে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সেনাবাহিনীর ঘোষণায় বলা হয়, সিনেট, সংবিধান আদালত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন বিষয়ক উচ্চপর্ষদ স্থগিত থাকবে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা এ ঘটনাকে “অভ্যুত্থানের চেষ্টার সুস্পষ্ট উদাহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপতি এখনও দায়িত্বে আছেন এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছেন।”
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা সদর দপ্তরের বাইরে বিপুল জনতা সেনা অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মূলত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। পানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো নানা ইস্যুতে তা ব্যাপক রূপ নেয়। শনিবার বিশেষ বাহিনী CAPSAT সেনারা বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। ওই সময় গুলিবিনিময়ে এক সেনা নিহত হয়।
এদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 2424.mg জানিয়েছে যে পুলিশ ও জেন্ডারমেরিও সেনাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পক্ষে যোগ দিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা অস্বীকার করা হয়েছে।
রাজোয়েলিনা, যিনি ২০০৯ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, পরে ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। তবে চলমান বিক্ষোভে তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে মূলত Gen Z মাদাগাস্কার আন্দোলন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো সাম্প্রতিক তরুণ নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/