রাশিয়া আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে প্রায় ২০ লাখ রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করতে পারবে। পার্লামেন্টে সহজেই পাস হতে পারে এমন এই সংশোধনী আইনের ফলে দেশটির সেনাশক্তি আরও বাড়ানোর সুযোগ পাবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বর্তমানে ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা সংখ্যা ৭ লাখেরও বেশি বলে দাবি করেছেন তিনি।
নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এবার থেকে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক আইন জারির সময় নয়, শান্তিকালেও রিজার্ভ সেনাদের ডাক পড়তে পারে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে “যুদ্ধ” নয়, বরং “বিশেষ সামরিক অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
এই আইন কার্যকর হলে পুতিনকে আরেক দফা জনপ্রিয়তাহীন সাধারণ সেনা মোবিলাইজেশনের পথে যেতে হবে না। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের আংশিক সেনা সমাবেশের সময় বিপুল সংখ্যক রুশ নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, যা সরকার এড়াতে চায়।
রিজার্ভ সেনাদের জন্য বাড়তি ভাতা
বর্তমানে নিয়মিত সেনা বাড়াতে চুক্তিভিত্তিক সৈন্য নিয়োগে রুশ সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, যা দেশের আর্থিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়াচ্ছে। রিজার্ভ সেনাদের ডাকলে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা সাধারণত প্রতিবছর সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং চাকরি থেকে অনুপস্থিতির সময় ভাতা পান। নতুন শর্ত অনুযায়ী, ডাকা হলে তাদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হবে।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম RBC জানিয়েছে, খসড়া সংশোধনীতে রিজার্ভ সেনাদের একবারে সর্বোচ্চ দুই মাসের বেশি মোতায়েন না করার শর্ত রাখা হয়েছে। গত সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি সরকার–সমর্থিত কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির উপ-চেয়ারম্যান আলেক্সেই ঝুরাভলেভ জানিয়েছেন, সংশোধনীর ফলে দুই মিলিয়ন রিজার্ভ সেনাকে আগের তুলনায় আরও বেশি পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে পেশাদার, তবে আপাতত রিজার্ভে রয়েছেন। এতদিন কেবল যুদ্ধ ঘোষণার সময় বা সামরিক আইন জারির পরই তাদের ব্যবহার করা যেত। অথচ আমরা এখন ইউক্রেনে বাস্তব এবং বৃহৎ আকারের যুদ্ধ পরিচালনা করছি, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি।”
মাহফুজ/