ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শেষের বিবর্ণতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের নাগরপুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা ও চাল বিতরণ আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১০ জন আটক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ঘোষণা

যে কারণে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩৬ এএম
যে কারণে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বেশি। দুই বছরে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশে বেশি বাড়ার কারণ হলো সরকারের নীতিগত দুর্বলতা, টাকার অবমূল্যায়ন ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে দাম কমবে না বরং বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১ দশমিক ১০ গ্রাম) ‘৪ হাজার ২০০ ডলার’ ছুঁয়েছে। তিন বছর আগে, ২০২২ সালের শুরুতে দাম ছিল ‘২ হাজার ডলারের নিচে’। ২০২৩ থেকে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ‘লাখের ঘরে’ পৌঁছায়। দুই বছরে দাম বেড়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ‘ভরি প্রতি ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৩ টাকা’ হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে স্বর্ণের দাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়ে। করোনার পর থেকে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দাম কমেনি। তবে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ার পেছনে রয়েছে সরকারের নীতিগত দুর্বলতা, টাকার মানের পতন ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা।

দাম বাড়লেও স্বর্ণের চাহিদা কমেনি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংকটের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বড় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনা ও সংরক্ষণ বাড়ান। যেটা বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের স্বর্ণ কেনার ক্ষমতা ও প্রবণতা কমে যাচ্ছে।

স্বর্ণের দাম কেন বাড়ছে?
স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সীমিত। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানায়, ২০২৩ সালে বিশ্বে স্বর্ণের সরবরাহ ছিল ‘৪ হাজার ৯৭৫ টন’। যেটা গত বছর ছিল ‘৪ হাজার ৯৪৬ টন’। তবে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বড় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। ২০২২ সালের শেষ থেকে তারা প্রতিবছর এক হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনছেন, যেখানে ২০১০-২১ সালে গড় ছিল মাত্র ‘৪৮১ টন’।

গত বছর শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে ছিল পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান ও চীন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বর্ণ একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তব সম্পদ হওয়ায় যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা বৈশ্বিক পরিস্থিতি সরাসরি এর বাজারকে প্রভাবিত করে। করোনা মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতির মন্দায় স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে উঠেছে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেনসহ অন্যান্য যুদ্ধের কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগ বেড়েছে।

২০০৮-০৯ সালে আরেকবার স্বর্ণের দাম ব্যাপক বেড়েছিল। ২০১১ সালে বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দাম ‘আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৯১৭ ডলার’ ছুঁয়েছিল, বাংলাদেশে ছিল ‘প্রতি ভরি ৪৮ হাজার টাকা’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্যযুদ্ধে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এর সঙ্গে ডলারের মান কমাও বড় কারণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগে কেন্দ্রীয় সব ব্যাংক রিজার্ভে ডলারের ওপর বেশি নির্ভর করলেও এখন ঝুঁকি বুঝে স্বর্ণ সংরক্ষণ বাড়াচ্ছে।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গ্লোবাল ইকোনমিতে অস্থিরতা বাড়ায় অনেক দেশ ও বিনিয়োগকারী ডলারের বদলে ধরাচ্ছেন ট্যানজিবল অ্যাসেট, ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়ছে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দামে পার্থক্য
বিশ্বের প্রতিটি দেশে স্বর্ণের দাম ভিন্ন হয়। কারণ শুল্ক ও আমদানির খরচ দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক দেশ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় স্বর্ণ আমদানিকে উৎসাহ দেয় না। তবে আপৎকালীন সম্পদ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ রিজার্ভ করে।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়। কিন্তু তেমন ফল মেলেনি। ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী, একজন যাত্রী বছরে সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণের গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারেন। এ ছাড়া বছরে একবার ১১৭ গ্রাম স্বর্ণের একটি বার আনতে পারবেন। তবে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।
এক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ রিজার্ভ এবং মুদ্রার শক্তিও স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দুবাই, আমেরিকা ও পেরুতে স্বর্ণ সস্তায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম আশপাশের দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের তুলনায় বেশি বলে অভিযোগ আছে। তবে ব্যবসায়ীরা এটা পুরোপুরি সত্য মনে করেন না।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ১৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ‘১৩৪ দশমিক ৯৬ মার্কিন ডলার’ বা ‘১৬ হাজার ৪২৫ টাকা’। একই সময়ে, ভারতে দাম ‘১৩৪ দশমিক ৭০ ডলার’, পাকিস্তানে ‘১৩৬ দশমিক ৯৪ ডলার’, নেপালে ‘১২৫ দশমিক ০৫ ডলার’, মালয়েশিয়ায় ‘১৩১ দশমিক ১৪ ডলার’, সৌদি আরবে ‘১২৬ দশমিক ৯১ ডলার’, কাতারে ‘১২৭ দশমিক ৯৭ ডলার’।

অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দাম বেশি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম ‘১৫২ দশমিক ৩৯ ডলার’ বা ‘১৮ হাজার ৫৪৭ টাকা’।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির সুযোগ সীমিত, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রভাবেই দাম নির্ধারিত হয়।

বাজুসের সহসভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সরকার বা সেন্ট্রাল ব্যাংক যদি স্বর্ণ সরবরাহ করত, বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকত। আমাদের দেশে রিসাইকেল্ড গোল্ডই বেশি চলে, এ জন্য দাম একটু বেশি হয়।’ তারা আরও বলেন, লাগেজের আওতায় এক ভরি স্বর্ণ আনলে শুল্ক কম দিতে হয়। কিন্তু বৈধ আমদানিতে অনেক বেশি শুল্ক এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকে।

স্বর্ণের দাম কি কমতে পারে?
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বাজারের ধারাবাহিক অস্থিরতার কারণে সঠিক পর্যালোচনা দেওয়া কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা বিষয় স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ও বাজারের ধারা দেখে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং বাড়ার প্রবণতা আছে।

বাজুসের সহসভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে স্বর্ণের দাম দ্রুত কমছে না। জিও-পলিটিক্যাল টেনশন না কমলে এবং যুদ্ধ চলতে থাকলে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ‘৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা এখন ৪ হাজার ২০০ ডলারের আশপাশে।’

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘স্বর্ণের দাম অনিশ্চয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ব্যাংকিং সুদের হারের ওপরও নির্ভর করে। আগে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভ হিসেবে ডলারকে গুরুত্ব দিত, এখন স্বর্ণের পরিমাণ বাড়ছে।’ স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাজার খুবই অস্থির। ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং ডলারের সুদের হারের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।’ বাংলাদেশে স্বর্ণের বাড়তি দাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে স্বর্ণ উৎপাদন ও সরকারি আমদানির সুযোগ বেশি, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দাম মিলবে না। ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ ও বাজারের অস্বচ্ছতা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করে, যা স্বর্ণ চোরাচালানের সুযোগ বাড়ায়।’ সূত্র: বিবিসি

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। দুই পক্ষের মধ্যকার এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

 শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলার জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে।

সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে লেবানন কর্তৃপক্ষ এটিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে লেবাননের পরিস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি আপাতত স্থগিত হলেও আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

এসএন/

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।  এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সহায়তায় চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসএন/

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে শুক্রবার (১৯জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র গত রাতে জানান যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পূর্বপরিকল্পিত সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মূলত এর পরপরই সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।