চলতি বছরের ১১ থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের ২,৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আল-জাজিরার খবর।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান "যুদ্ধবিরতি এবং দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুসংহত করার জন্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়" সম্মত হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে, "যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং নির্ভরযোগ্য ও টেকসই পদ্ধতিতে এর বাস্তবায়ন যাচাই করতে" আগামী দিনে পরবর্তী বৈঠক করতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
এর আগে, দুই পক্ষই বলেছিল যে তারা শনিবার (১৮ অক্টোবর) দোহায় শান্তি আলোচনায় বসছে, কারণ তারা এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে। ২০২১ সালে তালেবানরা কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দক্ষিণ এশীয় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় কয়েক ডজন নিহত এবং শত শত আহত হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে কাবুলের আলোচনাকারী দল কাতারের রাজধানীতে পৌঁছেছে।
আরেকদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে বলেছিল যে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "আলোচনাগুলো আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার এবং পাক-আফগান সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর আলোকপাত করবে।"
একসময়ের মিত্রদের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ এবং বিতর্কিত ২,৬০০ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ইসলামাবাদ কাবুলকে পাকিস্তানে সীমান্ত আক্রমণকারী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করে জানায় এই যোদ্ধারা আফগানিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে কাজ করছে।
এদিকে, তালেবান পাকিস্তানে আক্রমণ করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আফগানিস্তান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্নকারী আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করছে।
আরেকদিকে, ইসলামাবাদ কাবুলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তা্নের অভিযোগ, কাবুল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানে বসবাস করতে দিচ্ছে। এছাড়া তাদের সরকারকে উৎখাত করতে এবং নিজেদের কঠোর ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে।
সুলতানা দিনা/